করোনা ভাইরাস নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে খাতুনগঞ্জের ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজারে বেচাকেনা থেমে নেই। বেচাকেনায় সরব রয়েছে দেশের অন্যতম পাইকারি বাজার। তবে বিক্রেতারা জানান, ভোজ্য তেল ও ডালজাতীয় পণ্যের দাম কিছুটা বেড়েছে। কারণ, পণ্য মজুতের গুদামগুলো শ্রমিক-সংকটে বন্ধ রয়েছে। ফলে পর্যাপ্ত পণ্য সরবরাহ করা যাচ্ছে না।
সরকারি বন্ধের কারণে অধিকাংশ শ্রমিক বাড়িতে চলে গেছেন। পরিবহন শ্রমিকরা পণ্যবাহী গাড়ি চালাচ্ছেন না। পরিবহন সংকটের সুযোগে নিয়ে আমদানিকারকরা অতি প্রয়োজনীয় কয়েকটি পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে অনেক বিক্রেতা অভিযোগ করেছেন।
বন্ধের আগে খুচরা ক্রেতারা চাহিদার কয়েক গুণ বেশি পণ্য কিনে মজুত করে। এখন পাইকারি বিক্রেতাদের মাঝে পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। তারা পণ্য কিনতে খাতুনগঞ্জের ভিড় করছে। আড়তদার সোলায়মান বাদশা ইত্তেফাককে বলেন, পণ্য বেচাকেনা হচ্ছে। কিন্তু মাঝিরঘাটের গুদাম থেকে পণ্য ডেলিভারি হচ্ছে কম। শ্রমিকরা না থাকায় গুদাম থেকে পণ্য ডেলিভারি ব্যাহত হচ্ছে। পণ্যের কোনো সংকট নেই। গুদাম ভর্তি বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য।’
চট্টগ্রামে প্রায় ৫ শতাধিক বাণিজ্যিক গুদাম রয়েছে। এসব গুদামে আমদানিকারকরা জাহাজ থেকে পণ্য খালাসের পর মজুত করে রাখেন। এখন অধিকাংশ গুদাম বন্ধ রয়েছে। এসব গুদামে পণ্য লোড-আনলোডের কাজে কয়েক হাজার শ্রমিক জড়িত। লকডাউনের কারণে অধিকাংশ শ্রমিক নিজ নিজ এলাকায় চলে গেছেন। ফলে বাড়তি টাকা দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। চট্টগ্রাম গুদাম মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমেদ বলেন, শ্রমিক না থাকায় গুদাম থেকে পণ্য ডেলিভেরি দেওয়া যাচ্ছে না। ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান চালকরা গাড়ি না চলানোর কারণে পরিবহন সংকট দেখা দিয়েছে।’
মাঝিরঘাটের আমদানি রপ্তানিজাত পণ্য লোড-আনলোডের ১৭টি ঘাট রয়েছে। পর্যন্ত চার-পাঁচটি ঘাট চালু রয়েছে। শ্রমিক না থাকায় পণ্য খালাস ব্যাহত হচ্ছে। ঘাটগুলোতে প্রচুর পণ্যবোঝাই লাইটারেজ জাহাজ খালাসের অপেক্ষা করছে। বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান ও পণ্য পরিবহন মালিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মো. আবু মোজাফফর ইত্তেফাককে বলেন, পণ্যবাহী গাড়ি চলাচলে সরকারি কোনো নিষেধ নেই। কিন্তু মহাসড়কের পাশে কোনো খাবারের দোকান খোলা নেই। এতে পরিবহন শ্রমিকদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তাই তারা গাড়ি চালাচ্ছেন না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চাক্তাই এলাকায় চালের, পাইকারি মুদির দোকান ও আটা ময়দার মিল ও দোকানগুলো খোলা রয়েছে। চাক্তাই খাল দিয়ে নৌপথে পণ্য পরিবহন হচ্ছে। খাতুনগঞ্জের সোনামিয়া মার্কেট জুড়ে রয়েছে ভোজ্য তেল পাম অয়েল ও সয়াবিনের পাইকারি বাজার। এই মার্কেটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে। ভোজ্য তেলের দাম মণপ্রতি ২০০ টাকা করে বেড়েছে বলে বিক্রেতারা জানান। গতকাল পাম অয়েল প্রতি মণ ২ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সপ্তাহের শুরুতে দাম ছিল ২১০০ থেকে ২২০০ টাকা। আর খোলা সয়াবিন তেল প্রতি মণ ৩ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সয়াবিনও মণপ্রতি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা বেড়েছে।
অন্যদিকে ডাল জাতীয় পণ্যের দাম বেশি বেড়েছে। ছোলার দাম মণপ্রতি প্রায় ২০০ টাকা বেড়েছে। গত সপ্তাহে মণ ২১০০ টাকায় বিক্রি হলেও গতকাল ২২৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মশুর ডাল ১৯০০ টাকা থেকে বেড়ে ২১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
পাইকারি বিক্রেতারা জানান, শ্রমিকের অভাবে গুদাম থেকে পণ্য সরবরাহে সমস্যার কারণে আমদানিকারকরা ডালজাতীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। আবার শ্রমিক সংকটে ডালের মিলও বন্ধ রয়েছে। পেঁয়াজের ব্যবসায়ী মো. ইদ্রিস আলী বলেন, পেঁয়াজের দাম বাড়েনি। বেচাকেনাও হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের কাছে প্রচুর পেঁয়াজ মজুত রয়েছে।’