কক্সবাজারে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের সহায়তায় তিন প্রকল্পে মোট ৩৫ কোটি ডলার (২ হাজার ৯৭৫ কোটি টাকা) অনুদান অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংকের বোর্ড সভা। মিয়ানমার থেকে বলপূর্বক বিতাড়িত হয়ে আসা রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্যসেবা, নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ, মৌলিক সেবাসহ অবকাঠামো খাতে ব্যয় করা হবে এই সহায়তার অর্থ। বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টিমবন উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে মহান নেতৃত্বের পরিচয় দিয়েছে। টেকনাফ ও উখিয়ায় আশ্রয় দেওয়া রোহিঙ্গাদের সংখ্যা স্থানীয় জনগণের চেয়ে তিন গুণ। বিশ্বব্যাংকের অনুদানে নেওয়া তিন প্রকল্পের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের সহায়তার পাশাপাশি বাংলাদেশের পরিষেবা দেওয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়বে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, অনুদানের ১৫ কোটি ডলার ব্যবহার করা হবে কক্সবাজারে হেলথ অ্যান্ড জেন্ডার সাপোর্ট প্রকল্প বাস্তবায়নে। এতে করে রোহিঙ্গা এবং স্থানীয় ৩৬ লাখ মানুষ উপকৃত হবে। কক্সবাজারে খর্বকায় শিশু এবং নবজাতক মৃত্যুর হার দেশের অন্য অঞ্চলের চেয়ে বেশি। প্রকল্পটির মাধ্যমে কক্সবাজারের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করা হবে। অনুদানের ১০ কোটি ডলার ব্যয় হবে ইমার্জেন্সি মালটিসেক্টর রোহিঙ্গা ক্রাইসিস রেসপন্স প্রকল্পে বাড়তি সহায়তা আকারে। প্রকল্পটি রোহিঙ্গাদের মধ্যে বিদ্যুত্, পানি, স্যানিটেশন সুবিধা এবং দুর্যোগসহনীয় অবকাঠামো নির্মাণে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে উপকার পাবে ৭ লাখ ৮০ হাজার জন।
অনুদানের বাকি ১০ কোটি ডলার ব্যয় হবে সেফটি নেট সিস্টেম ফর দ্য পুওরেস্ট প্রকল্প বাস্তবায়নের বাড়তি সহায়তা আকারে। প্রকল্পটির মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারগুলোর আয় বৃদ্ধি এবং জীবনমান উন্নতি করার লক্ষ্য রয়েছে। বিশ্বব্যাংক এই অনুদানসহ রোহিঙ্গাদের সহায়তায় সর্বমোট ৪৮ কোটি ডলার অনুদান দেওয়ার অঙ্গীকার করল।