ফতুল্লায় ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করেছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা

পূর্বশত্রুতার জের ধরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার দেওভোগ আদর্শনগরে শরীফ হোসেন (৩০) নামের এক ব্যবসায়িকে কুপিয়ে হত্যা করেছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। গতকাল বুধবার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শরীফ হোসেন আদর্শনগরের আলাল মাতবরের ছেলে।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনেরা জানান, স্থানীয় বখাটে ও কিশোর গ্যাংয়ের লিডার শাকিল, লালনসহ কয়েক জন শরীফ হোসেনের মালিকানাধীন বৃষ্টি ইলেকট্রনিকস ও ফার্নিচারের দোকানের সামনে আড্ডা দিত এবং মাদক সেবন করত। শরীফ হোসেন তাদের সেখানে আড্ডা দিতে নিষেধ করেন।      এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। কিন্তু কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা তা মেনে নেয়নি। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঐ গ্যাংয়ের এক সদস্য শরীফ হোসেনকে মোবাইল ফোনে বাসা থেকে ডেকে একটি রিকশার গ্যারেজের সামনে নিয়ে যায়। সেখানে শাকিল, লালনসহ ১০-১২ জন তাকে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

আদর্শনগর এলাকার স্থানীয় একটি বাড়ির সিসি টিভির ফুটেজে দেখা যায় যে রামদা, ছোরা, লোহার রড ও লাঠি নিয়ে ১০-১২ জনের একটি দল দৌড়ে রিকশার গ্যারেজের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এর এক মিনিটের মধ্যেই আশপাশের লোকদের ছোটাছুটি করে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে দেখা যায়। দুই-তিন মিনিটের মধ্যে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের আবারও পালিয়ে যেতে দেখা যায়।

নিহতের বাবা আলাল মাতবর জানান, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য শাকিল, লালনসহ কয়েক জন পূর্বশত্রুতার জের ধরে তার একমাত্র ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা করেছে।

নিহতের মা রহিমা বেগম জানান, বাসা থেকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে তার ছেলেকে হত্যা করা হয়। শাকিল ও লালন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করে আসছিল। কিন্তু পুলিশ তাদের গ্রেফতার করেনি। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী নেতার আশ্রয়ে তারা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে চলছে। তিনি আরো জানান, শরীফ হোসেন প্রায় পাঁচ বছর সৌদি আরবে ছিল। দেশে ফিরে এসে ইলেকট্রনিকস ও ফার্নিচারের ব্যবসা শুরু করে। তিন মাস আগে বিয়ে করে সে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক অঞ্চল) মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী জানান, পূর্বশত্রুতার জের ধরে শরীফ হোসেন নামের এক ব্যবসায়িকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে কিশোর সন্ত্রাসীরা। হত্যাকাণ্ডের সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে হত্যাকারীদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।