করোনার কারণে বিপাকে পড়েছেন মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সবজি চাষিরা। ফলন ভালো হলেও স্থানীয় পাইকারি বাজারগুলোতে চাহিদা নেই সবজির। কাজেই নামমাত্র মূল্যে স্থানীয় বাজারেই সবজি বিক্রি করছেন কৃষকরা।
গত মঙ্গলবার ও ১ এপ্রিল সরেজমিন ঘিওর বাজার, মানিকগঞ্জ আড়তের বিভিন্ন এলাকার সবজি চাষিদের সঙ্গে কথা বললে এমন বিষয়গুলোই তুলে ধরেন তারা। অপরদিকে সার, বীজ ও কীটনাশকের দাম বাড়ছে বলে জানান অনেকেই। এভাবে চলতে থাকলে লোকসানে পড়তে হবে বলে মন্তব্য চাষিদের।
ঘিওর উপজেলার বালিয়াখোড়া আঙ্গুরপাড়া ও চৌবাড়িয়া এলাকার করল্লা চাষি আলতাফ হোসেন ও ইনছার মোল্লা বলেন, চলতি মৌসুমে ১৬ বিঘা জমিতে মিষ্টি লাউ পিয়াজ, করল্লা, ঝিঙ্গে আবাদ করেছি। ফলনও খুব ভালো। তবে গত কয়েকদিন ধরে বাজারে সবজির কোনো চাহিদা নেই। বাজারজাত করতেও সমস্যা হচ্ছে। দামও ভালো পাচ্ছি না। ক্ষেত থেকে করল্লা না কাটলে পচে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের খরচের টাকা উঠাতে সমস্যা হবে।
চঙ্গশিমুলিয়া এলাকার কৃষক মুন্নাফ মিয়া বলেন, চলতি মৌসুমে অর্ধ লাখ টাকা ব্যয় করে দুই বিঘা জমিতে শসার আবাদ করেছি। ফলনও বেশ ভালো। মানিকগঞ্জ পাইকারি আড়তগুলোতে এর চাহিদা না থাকায় প্রতি মণ শসা বিক্রি করতে হচ্ছে সাড়ে তিনশো টাকায়। এতে শুধু শ্রমিক, বীজ ও সার এবং কীটনাশকের খরচ আসছে। এভাবে চলতে থাকলে খরচের টাকা তুলতেই হিমশিম অবস্থায় পড়তে হবে।
মানিকগঞ্জ পাইকারি আড়তদার মো. আলী হোসেন বলেন, অনুকূল আবহাওয়ায় চলতি মৌসুমে সবজির ফলন ভালো হয়েছে। তবে দেশে করোনা ভাইরাসের কারণে পাইকারি বাজারে ক্রেতা নেই। যে কারণে সবজি চাষিদের এবার বেশ লোকসানে পড়তে হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সার ব্যবসায়ী জানান, দেশে করোনা ভাইরাসের কারণে সপ্তাহ খানেক ধরে সার, বীজ ও কীটনাশকের গাড়ি আসছে না। সময়মতো দোকানও খোলা রাখা যাচ্ছে না। আমদানি কম থাকায় আগের চেয়ে অল্প কিছু বেশি দামে বিক্রি ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই বলে জানান তিনি।
ঘিওর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ বিপুল হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে ঘিওর উপজেলায় ৩৮২ হেক্টর জমিতে সবজির আবাদ হয়েছে। ফলনও হয়েছে ভালো। করোনা ভাইরাসের কারণে সবজি বাজারজাত করতে সমস্যা হচ্ছে। সেই সাথে বাজারদর কম থাকায় ন্যায্যমূল্য থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন চাষিরা। এটা তো সারাদেশেই সমস্যা। সরকারিভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিষয়টি অবশ্যই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।