ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি মামুন রহমানের তিনটি মাটি কাটার ট্রাক আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে পুকুর খনন করে মাটির ব্যবসা করে আসছিল মামুন রহমান ও করিম মোল্লা। মাটি কাটার জন্য ঐ এলাকায় এলজিইডির একটি সড়কসহ বেশ কিছু ফসলিজমি নষ্ট করে ফেলেছেন তারা। এলাকার লোকজন বাধা দিলেও পেশীশক্তি প্রয়োগ করে এতদিন মামুন রহমান ও করিম মোল্লা ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। ইতিপূর্বে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাটি কাটতে নিষেধ করে তাদের আর্থিক জরিমানা করা হয়।
গতকাল বুধবার সকালে মানিকদাহ এলাকার অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নিতে এবং উন্নয়নমূলক কাজ পরিদর্শনে ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরীসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুর রহমান খান ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল-আমিন উক্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। সে সময় বিক্ষুব্ধ লোকজন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন লোকজনকে কাছে পেয়ে অবৈধভাবে মাটি কাটা ৩টি ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয়। প্রশাসনের লোকজনকে কাছে পেয়ে এলাকাবাসী তাদের কাছে মাটি কাটা বন্ধসহ কতিপয় নেতার অত্যাচারের হাত থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার দাবি তোলেন। শত শত জনতার দাবির মুখে অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে করিম মোল্লা, জাহিদুল শেখ, জাহিদ হাওলাদারকে তাত্ক্ষণিক আটক করে পুলিশে হস্তান্তর করে প্রশাসন।
সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, আমরা দৌড়ঝাঁপ করে এলাকার উন্নয়নের জন্য রাস্তা নির্মাণ করে দিচ্ছি আর সুযোগসন্ধানী কিছু নামধারী নেতা তাদের স্বার্থ হাসিল করার জন্য পরিবেশ নষ্ট করবে, এটা হতে পারে না। অন্যায়কারী যেই হোক তাকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি প্রদান করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুর রহমান খান বলেন, উপজেলার কাউলিবেড়া ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গি ঈদগাহ নেংরার মোড় এলাকায় ছিদ্দিক মোল্লা ও আক্কাছ মোল্লার পুকুর কিনে করিম মোল্লা ও মামুন রহমান মাটির ব্যবসা করে আসছিল। এতে করে এলাকার ফসলি জমি নষ্টসহ রাস্তার বেশ ক্ষতি সাধন হচ্ছিল। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ৩টি ট্রাকে আগুন দেয়। আমরা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ভেকু মেশিনসহ মাটি ব্যবসায়ী ৩ জনকে আটক করি।