সবাই নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিন

জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান ও পানিসম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, স্বাধীনতার সুফল মানুষ যাতে ভোগ করতে পারে তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে একাদশ সংসদ নির্বাচনে জনগণকে ভোট দিতে হবে। দক্ষিণাঞ্চলসহ সারাদেশের সার্বিক উন্নয়ন সাধনকারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের সুযোগ এই নির্বাচনের মধ্য দিয়েই অর্জিত হবে। এ উদ্দেশ্যে সবাই কেন্দ্রে গিয়ে ভোট প্রদান করবেন এবং পছন্দসই প্রার্থীকে যাতে ভোট দিতে পারেন তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।

সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার শেষ দিন গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলা সদরে কলেমা চত্বরে পিরোজপুর-২ আসনের মহাজোট প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগ ও জেপি আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী পিরোজপুর-২ আসনে (ভান্ডারিয়া-কাউখালী-ইন্দুরকানি) ১৪ দলীয় জোটের শরিকদল জাতীয়  পার্টি-জেপির প্রার্থী হিসেবে তাঁর নির্বাচনী প্রতীক বাইসাইকেল মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

জেপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, আমি সকল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে বলেছি আপনারা মিছিল করুন, প্রচারণা চালান। সবাই ভোটের দিন নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিন। ভান্ডারিয়াসহ এই আসনে নির্বাচনের পরিবেশ বজায় রয়েছে। আশেপাশের নির্বাচনী এলাকাগুলোর মতো এখানে উত্তাপ-উত্তেজনা নেই। সেসব জায়গায় নানা অঘটন ঘটলেও আমাদের এলাকায় মানুষ শান্তি-স্বস্তি-নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে রয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা বাইসাইকেল মার্কায় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। প্রধানমন্ত্রী ১৪ দল নিয়ে জোট করেছেন, তার মধ্যে ১৩টি দলকে নৌকায় এবং আমাকে বাইসাইকেল মার্কায় নির্বাচন করার সুযোগ দিয়ে এই এলাকার ভোটারদের সম্মান দেখিয়েছেন। শতবর্ষ পরে ইতিহাসে এর মূল্যায়ন হবে। এর কারণ এখানকার মানুষ ঐক্যবদ্ধ ও ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য ইতিবাচক ধারায় সচেষ্ট। এখানে আমি কখনো রাজনীতির কথা বলি না, রাজনীতি মানুষের মাঝে বিভাজন সৃষ্টি করে। মানুষকে দলমত নির্বিশেষে ভালোবাসতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, আমরা ছাত্র রাজনীতির মধ্য দিয়ে অনেক কিছু শিখেছি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু, আমার পিতা মানিক মিয়া, দেশের মানুষ এবং তৃণমূলের কাছ থেকেও শিখেছি। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে পাকিস্তানি স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম করে দেশ স্বাধীন করেছি। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে বঙ্গবন্ধুকে মুক্ত করেছি। আজ কোন কোন দলের নেতা-নেত্রী জেলখানায় রয়েছেন, কিন্তু তাদের মুক্তির আন্দোলনে নেতা-কর্মীদের সেই ভাবে আন্তরিক দেখা যায় না। আমরা যখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করি, তখন তিনি যে মমত্ববোধ, ভদ্রতা, উদারতা ও আতিথেয়তা প্রদর্শন করেন তা অন্যদের মাঝে নেই।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু আরও বলেন, উন্নয়ন একটি ধারাবাহিক কাজ। প্রধানমন্ত্রী জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে চেয়েছেন। তিনি দক্ষিণ অঞ্চলের উন্নয়নে সব সময় ভূমিকা রেখে এসেছেন। শেখ হাসিনা না হলে এ অঞ্চলে উন্নয়ন সম্ভব হতো না। তাঁর হাতকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। আমরা আল্লাহর রহমত ও মানুষের দোয়া সাথে নিয়ে শক্তিশালী হতে চাই। ভাণ্ডারিয়ার মানুষ যেমন ঐক্যবদ্ধ, তেমনি শান্তি-সুস্থ-নিরাপদে আছেন। মানুষ আগে শান্তি চায়। মানুষের এসব প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে সারাদেশে যেমন নৌকায় ভোট দিতে হবে, তেমনি ১৪ দলীয় জোট-মহাজোটের শরিকদল জাতীয় পার্টি-জেপির বাইসাইকেল মার্কায় ভোট দিয়ে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।

জনসভায় বিশেষ অতিথি জাতীয় পার্টি-জেপির প্রেসিডিয়াম সদস্য, ইত্তেফাক সম্পাদক ও পাক্ষিক অনন্যার প্রকাশক-সম্পাদক এবং পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য তাসমিমা হোসেন বলেন, দেশের সকল দলের অংশগ্রহণে আজ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দক্ষিণ বাংলায় ৩৪ বছরের উন্নয়নের পুরোধা ব্যক্তি আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নাম মানুষের মুখে মুখে। তিনি মানুষের কাছ থেকে ভালবাসা ও সমর্থন পেয়েছেন। ১৯৯১ সালে তাঁর নির্বাচনে ভোট চাওয়ার জন্য ভোটাদের কাছে আসতে পারেননি রাজনৈতিক বৈরী পরিস্থিতির জন্য। তখন ভাণ্ডারিয়ার নেতৃবৃন্দ ও জনগণ তাঁর পক্ষে যে সাহসী ভূমিকা নিয়েছিলেন তা আমাদের পরিবার চিরকাল মনে রাখবে। মানিক মিয়ার পরিবারের পুত্রবধূ ও আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর সহধর্মিণী হিসাবে ১৯৯৬ সালে উপ-নির্বাচনে পিরোজপুর-২ আসনে আমার সংসদ সদস্য হওয়ার সুযোগ এখানকার মানুষের কাছ থেকেই পেয়েছিলাম। এরই ধারাবাহিকতায় আজ আবারও আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর জন্য মানুষের কাছে ভোট চাচ্ছি। এ আসনের মানুষ তাঁকে ভালবাসেন ও সমর্থন দেবেন, এটা আমাদের দৃঢ় আশাবাদ।

জাতীয় পার্টি-জেপির ভাণ্ডারিয়া উপজেলা আহ্বায়ক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুল হক মনি জোমাদ্দারের সভাপতিত্বে  জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন, পিরোজপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন মহারাজ, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেপির কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক আতিকুল ইসলাম তালুকদার উজ্জল, জেপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাহিবুল হোসেন মাহিম, আওয়ামী লীগের উপজেলা সভাপতি ফায়জুর রশীদ খসরু, জেপির উপজেলা যুগ্ম-আহ্বায়ক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, যুগ্ম-আহ্বায়ক ও গৌরীপুর ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান চৌধুরী, আওয়ামী লীগের উপজেলা সহ-সভাপতি লিয়াকত হোসেন তালুকদার ও নিজামুল হক নান্না, জেপির কেন্দ্রীয় সদস্য ইউসুফ আলী আকন, উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সম্পাদক উত্তম দাস, যুব সংহতির উপজেলা যুগ্ম-আহ্বায়ক আফজাল হোসেন সরদার ও বাহাদুর সরদার।

জনসভায় উপস্থাপকের দায়িত্বে ছিলেন ভাণ্ডারিয়া উপজেলা জেপির সদস্য সচিব ও ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান টুলু এবং টুঙ্গীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক হাফিজুর রশীদ তারিক। মঞ্চে আরও ছিলেন জাতীয় পার্টি-জেপির কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান খলিল ও এডভোকেট এনামুল ইসলাম রুবেল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা মহিলা পার্টির সভানেত্রী আসমা আক্তার, নদমুলা-শিয়ালকাঠি ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা জেপির যুগ্ম-আহ্বায়ক শফিকুল কবির বাবুল তালুকদার, ভিটাবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান খান এনামুল করিম পান্না প্রমুখ।

পিরোজপুর-২ আসনে ১৪ দলীয় জোট ও মহাজোটের শরিক দল জাতীয় পার্টি-জেপির প্রার্থী দলের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নির্বাচনী প্রচারণা উপলক্ষে আয়োজিত এ বিশাল জনসভায় বিভিন্ন গ্রাম থেকে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন। আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি-জেপির কর্মী-সমর্থকরা ঢাক-ঢোল বাজিয়ে দলে দলে বাইসাইকেল মার্কার শ্লোগানসহ জনসভায় হাজির হন। ভাণ্ডারিয়ায় স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে বড় জনসমাগম ঘটে এই নির্বাচনী জনসভায়।