চিকিত্সা সেবাই তার ধ্যান-জ্ঞান। মানুষের চিকিত্সা সেবা দিয়ে যেমন সুনাম কুড়িয়েছেন তেমনি চিকিত্সা শাস্ত্রের বই লিখে শুধু নিজের সুনাম অর্জন করেননি, সারবিশ্বে চিকিত্সক হিসেবে বাংলাদেশের নামকেও পৌঁছে দিয়েছেন। তার লেখা চিকিত্সা শাস্ত্রের বই বিশ্বের নানা দেশে পাঠ্য। একুশে পদকপ্রাপ্ত দেশের এই স্বনামধন্য চিকিত্সক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ অবসরে যাচ্ছেন আগামী সোমবার। অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বিএসএমএমইউ-এর তিনবারের নির্বাচিত ডিন, মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান। অবসরে যাওয়ার আগে ইত্তেফাককে ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, জীবনে পুরস্কার সম্মান পেয়েছি অনেক। কিন্তু মানুষের জীবন বাঁচানোর মত পুরস্কার আর কিছু হতে পারে না। তাছাড়া, চাকরি থেকে অবসরে গেলেও চিকিত্সা সেবা থেকে অবসরে তো যাচ্ছি না। সারাজীবনে ছাত্রদের ভালোবাসা পেয়েছি, রোগীদের সেবা দিতে পেরেছি। চাকরি থেকে অবসরে গেলেও এসব দায়িত্ব থেকে তো অবসর নেই, তা চলতে থাকবে।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ে তার শেষ কর্মদিবসে ডা. এবিএম আবদুল্লাহর অবসরে যাওয়া উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের হলরুমে বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
তরুণ চিকিত্সকদের উদ্দেশ্যে ডা. আবদুল্লাহ বলেন, জীবনের জন্য লক্ষ্য বা টার্গেট থাকতে হবে। কারো ক্ষতি করা নয়, বরং ভালো কিছু করার প্রবণতা থাকতে হবে। মানুষের জীবনে কিছু করে যাওয়ার মতো সময় খুব অল্পই পাওয়া যায়। এই সংক্ষিপ্ত জীবনের পরিভ্রমণে ভালো কিছু অর্জন করে তা মানুষের মাঝেই বিতরণ করে যেতে হবে। তিনি বলেন, জীবনে আশাহত হওয়া চলবে না। আমার জীবন নিয়ে আমি আশাহত নই। আমি একটি সফল জীবন যাপন করেছি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহ সিকদার, অধ্যাপক ডা. সাহানা আখতার রহমান। অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন এবিএম আব্দুল্লাহর সহধর্মিনী অধ্যাপিকা মাহমুদা বেগম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল হান্নান, পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আব্দুল্লাহ আল হারুন, এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ডা. মো. ফরিদ উদ্দিন, অধ্যাপক ডা. মো. আবদুর রহিম, অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল জলিল চৌধুরী, বক্ষব্যাধি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ কে এম মোশাররফ হোসেন প্রমুখ।
অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহর সহধর্মিনী অধ্যাপিকা মাহমুদা বেগম বলেন, ‘জীবনে সফল হওয়ার জন্য আত্মবিশ্বাস, টার্গেট, সময়ানুবর্তিতা, স্বার্থহীনতা, একাগ্রতা, চেষ্টা ও আশাবাদী থাকাটা খুবই জরুরি। যা ছিলো একজন এবিএম আদুল্লাহর জীবনে। এজন্যই তিনি আজ মানুষের ভালোবাসার পাত্র হতে পেরেছেন।
’উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, ‘তরুণ চিকিত্সকদের জন্য তার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই বিশ্ববিদ্যালয় সব সময়ই তাঁর অভাব অনুভব করবে।’
অধ্যাপক ডা. আবদুল্লাহ ১৯৭৮ সালে এমবিবিএস পাস করেন। ১৯৮৪ সালে সৌদিতে যান চিকিত্সক হিসেবে চাকরি নিয়ে। পাঁচ বছর ছিলেন। লোভনীয় সেই ছেড়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য ১৯৯২ সালে লন্ডনে যান। লন্ডনের রয়েল কলেজ অব ফিজিশিয়ান থেকে এমআরসিপি ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। সেইসময় সুযোগ পান কিছু ভালো হাসপাতালে প্রশিক্ষণের। পাস করার পর বাইরের দেশে যাওয়ার লোভনীয় অফার ছিল। কিন্তু তিনি দেশে চলে আসেন দেশের মানুষকে সেবা করার ব্রত নিয়ে। ১৯৯৫ সালে তত্কালীন পিজি হাসপাতালে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। ২০১৬ সালে চিকিত্সা সেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন একুশে পদক। এছাড়াও চিকিত্সা শাস্ত্রে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি লাভ করেছেন বাংলা একাডেমি ফেলোশিপ, মার্কেন্টাইল ব্যাংক পুরস্কার, বাংলার দর্পণ সম্মাননাসহ আরো অনেক পুরস্কার।