প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকারের কঠোর প্রয়োগ দেখতে চায় টিআইবি

দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের মতো বৈশ্বিক মহামারি ঠেকাতে সরকারের পরিচালিত কার্যক্রমে কোনো অনিয়ম হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার যে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, তার কঠোর ও নির্মোহ প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। গতকাল বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলছে, এ ধরনের সংকট মোকাবিলায় সফল হতে হলে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও কার্যকর দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের কোনো বিকল্প নেই—প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারিতে তারই প্রতিফলন ঘটেছে। টিআইবি মনে করে, এই ঘোষণা বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব এখন সব পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে। অন্যদিকে জরুরি প্রয়োজনে ত্বরান্বিত করার বাধ্যবাধকতা সত্ত্বেও ক্রয় খাতে জবাবদিহি এবং খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহে গতিশীলতা নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সুদৃঢ় অবস্থান যেমন আশাব্যঞ্জক, তেমনি এর কার্যকর বাস্তবায়নের দায়িত্ব তার দলের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মী, সমর্থক ও সুবিধাভোগীর। তাদের প্রতি এখন দেশবাসীর প্রত্যাশা, এই ঘোষণার প্রতি তারা শুধু শ্রদ্ধাশীল থাকবেন তা-ই নয়, বরং এই মহাদুর্যোগের সুযোগ নিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে দূরে থেকে তারা সব ধররনের অনিয়ম-দুর্নীতি, আত্মসাত্, অপচয় এবং রাজনৈতিক সুবিধা অর্জনের অপচর্চাকে সক্রিয়ভাবে প্রতিহত করবেন।

মাদারীপুরের শিবচর, হবিগঞ্জের বাহুবল ও ভোলায় সরকারি সহায়তার চাল ও ভোজ্যতেল নিয়ে অনিয়মের ক্ষেত্রে তাত্ক্ষণিক পদক্ষেপের যে দৃষ্টান্ত সংবাদমাধ্যমে এসেছে, তা উল্লেখ করে ড. জামান বলেন, জড়িতরা শাসক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বা অন্যভাবে প্রভাবশালী হওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও পুলিশ সদস্য যেভাবে কঠোর অবস্থান নিতে পেরেছেন, তাতে আমরা স্বস্তি পেয়েছি। কিন্তু এর ঠিক বিপরীতে অভিযোগ উঠেছে, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ‘দোকান খোলা রাখার’ অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ার নাম করে ক্যাশবাক্স থেকে টাকা নেওয়ার সময় হাতেনাতে ধরা পড়েছেন পুলিশ বাহিনীর সদস্য। আমরা সীতাকুণ্ডের ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন হিসেবেই দেখতে চাই এবং আশা করতে চাই শিবচর, ভোলা ও বাহুবলের দৃষ্টান্ত সব প্রশাসনিক, সেনাসদস্যসহ আইন প্রয়োগে নিয়োজিতদের জন্য মডেল হবে।