র্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ জানিয়েছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সফল করার জন্য সারা দেশে ১০ হাজার র্যাব সদস্য মোতায়েন করা হবে। স্থাপন করা হয়েছে ৫৭টি বিশেষ ক্যাম্প। সার্বক্ষণিক চারটি হেলিকপ্টার প্রস্তুত থাকবে, যার মাধ্যমে প্রয়োজনে দেশের যেকোনো প্রান্তে পাঠানো হবে র্যাবের স্পেশাল ফোর্স। অসত্য তথ্য প্রচার ঠেকাতে তারা ফেসবুকে একটি পেজের মাধ্যমে সাইবার নিউজ যাচাই কেন্দ্র চালু করেছে। নির্বাচনের সময়ে কেউ যদি কোনো খবরে সন্দেহ প্রকাশ করে, সে খবর তাদের কাছে পাঠালে এর সত্যতা যাচাই করে ফিডব্যাক দেবে তারা। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে র্যাবের নিরাপত্তা প্রস্তুতি জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সফল করতে গত এক বছর ধরেই র্যাব কাজ করছে জানিয়ে র্যাব মহাপরিচালক বলেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং জঙ্গি হুমকির আশঙ্কায় নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করে নির্বাচনের একটা ব্যাকগ্রাউন্ড তৈরি করেছি। সাইবার ওয়ার্ল্ডে একটি গোষ্ঠী মিথ্যা তথ্য প্রচারের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। তারা এসব গুজব প্রচারে লক্ষ-কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে। গত দুই মাস বা তারো বেশি সময় ধরে এসব গুজব প্রতিরোধে র্যাব সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।
বেনজীর আহমেদ বলেন, আজ থেকে ‘র্যাব-সাইবার নিউজ ভেরিফিকেশন সেন্টার’ নামে একটি ফেসবুক পেজ চালু করা হয়েছে। সাইবার ওয়ার্ল্ডের যেকোনো নিউজ, তথ্য, ভিডিও সম্পর্কে সন্দিহান হলে কেউ যদি ওই পেজে যোগাযোগ করে, তাহলে দ্রুততার সঙ্গে আমরা যাচাই করে ফিডব্যাক দেব। একটি টিম সার্বক্ষণিক এই দায়িত্ব পালন করবে। যেকোনো তথ্যের মাধ্যমে দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করা হলে তা প্রতিরোধে র্যাব তত্পর রয়েছে।
ইতোমধ্যে পরিপূর্ণ প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে জানিয়ে র্যাব মহাপরিচালক বলেন, সব সদস্যের কাছে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ৩০ ডিসেম্বর শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী র্যাব মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে।
তিনি বলেন, আমরা হেলিকপ্টার ব্যবহারের অনুমোদন পেয়েছি। নিজেদের দু’টি এবং সেনাবাহিনীর দু’টি হেলিকপ্টার সার্বক্ষণিকভাবে প্রস্তুত থাকবে। বিশেষ প্রশিক্ষিত একটি স্পেশাল ফোর্স ঢাকায় প্রস্তুত থাকবে। দেশের যেকোনো প্রান্তে কোনো গোষ্ঠী সহিংসতার দুঃসাহস দেখালে দ্রুততম সময়ে স্পেশাল ফোর্সের সদস্যদের পাঠানো হবে।
দেশজুড়ে র্যাবের ১০ হাজার সদস্য সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে। নির্বাচন উপলক্ষে ইতিমধ্যে ৫৭টি বিশেষ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। আমাদের বোমা নিষ্ক্রিয় দল দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রস্তুত থাকবে। সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। কোথাও কোনো ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতি দেখলে র্যাবকে জানানোর অনুরোধ জানিয়ে র্যাব প্রধান বলেন, গ্রামে কিংবা নগরে কোথাও কোনো অপরিচিত মুখ দেখলে র্যাবকে জানাবেন। কোথাও কালো টাকা বিতরণের খবর পেলেও র্যাবকে জানানোর অনুরোধ রইলো। এ ছাড়া, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে কেউ যদি অর্থ দাবি করে সে বিষয়টিও সঙ্গে সঙ্গে র্যাবকে জানাবেন। নির্বাচনকে ঘিরে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই উল্লেখ করে র্যাব মহাপরিচালক বলেন, তবে আমরা প্রস্তুত থাকতে চাই।
মতিঝিলে একটি অফিস থেকে কালো টাকা উদ্ধারের বিষয়ে বেনজীর বলেন, এ বিষয়ে একটি মামলা হয়েছে। ওই অফিস থেকে ১৫০ কোটি টাকা ছড়ানোর রেকর্ড পেয়েছি, আরো ২৫০ কোটি টাকা ছড়ানোর তথ্য পেয়েছি। যেহেতু মানি লন্ডারিংয়ের মামলা তাই এটি তদন্ত করবে সিআইডি।