মেলেনি সরকারি-বেসরকারি সহায়তা
মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, চট্টগ্রাম অফিস
লকডাউনের ফলে পারাপার বন্ধ থাকায় চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে কর্ণফুলী নদীর যাত্রী পারাপারে নিয়োজিত মাঝি-মাল্লারা। এ নদীতে যাত্রী পারাপারের ১৫টি ঘাট রয়েছে। এসব ঘাটে যাত্রী পারাপারের প্রায় ৩ হাজার সাম্পান রয়েছে। তাদের একমাত্র আয়ের উত্সও এটি। এখন যাত্রী পারাপার না থাকায় পরিবার নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে তারা। সরকারি বা বেসরকারিভাবে কোনো সহায়তা পাচ্ছে না মাঝি-মাল্লারা। ফলে অলস সময় কাটাচ্ছে কয়েক হাজার মাঝি। মাঝিরা জানায়, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন এসব ঘাট দিয়ে প্রতিদিন সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী, শ্রমিক, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ নানা পেশার কয়েক লাখ যাত্রী পারাপার হয়ে থাকে। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে যাত্রী পারাপার। এসময় প্রতিটি ঘাটে দৈনিক ২৫০ থেকে ৩০০ সাম্পান চলে। এখন যাত্রী পারাপার না থাকায় প্রতিটি ঘাটে মাত্র তিন-চারটি করে সাম্পান নিয়োজিত রয়েছে। কেউ জরুরি প্রয়োজনে বা অসুস্থ মানুষ ছাড়া আর কোনো যাত্রী পারাপার নেই।
বাংলাবাজার ঘাট সমিতির সভাপতি এনামুল হক বলেন, মাঝি-মাল্লার মানবেতন জীবনযাপন করছে। যাত্রী পারাপার না থাকায় তাদের আয় রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। এসব মাঝিরা দিনে এনে দিনে খায়। আয় না থাকায় অনেক মাঝিকে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হচ্ছে।
সরেজমিনে অভয়মিত্র ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, অনেক মাঝি-মাল্লা একসঙ্গে বসে অলস সময় কাটাচ্ছেন। কেউ লুডু খেলছে। সাম্পান মাঝি এয়ার মোহাম্মদ বলেন, গত কয়েক দিন যাবত্ সাম্পান বন্ধ থাকায় আয় বন্ধ। এখন পরিবারে পাঁচ সদস্য নিয়ে কষ্টে রয়েছি। ধার-দেনা করে চলছি। এভাবে কতদিন চলতে পারব তা নিয়ে ভাবছি।’
নুরু নামে আরেক মাঝি বলেন, বাড়ির পাশে মুদির দোকান থেকে বাকিতে চালসহ অন্যান্য পণ্য কিনে দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাচ্ছি। দোকানি তো আর দীর্ঘ সময় বকেয়া দেবে না। পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হয় আল্লাহ জানেন।’ কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি এস এম পেয়ার আলী ইত্তেফাককে বলেন, প্রতিটি ঘাটে তিন-চারটি করে সাম্পান জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী যাত্রীদের পারাপার করছে। কিন্তু মাঝিদের বিশাল অংশ বেকার হয়ে পড়েছে। তাদের আয় বন্ধ হয়ে গেছে। তারা এখনো সরকারি বা বেসরকারিভাবে কোনো আর্থিক সাহায্য-সহযোগিতা পায়নি।