সাধারণত সড়কে দুর্ঘটনা হ্রাস করিতে সড়ক-মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে দেওয়া হয় স্পিড ব্রেকার। গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ করিয়া দুর্ঘটনার আশঙ্কা দূর করাই ইহার মুখ্য উদ্দেশ্য। কিন্তু নিয়মনীতি না মানিয়া ও অপরিকল্পিতভাবে স্পিড ব্রেকার দেওয়ায় ইহাই হইয়া উঠিতেছে সড়ক দুর্ঘটনার বড়ো কারণ। সম্প্রতি মিরপুরের ষাট ফিট রাস্তায় এমনই একটি দুর্ঘটনা ঘটে। একটি সংবাদপত্রের সিএনজি স্পিড ব্রেকার অতিক্রম করিতেই নিয়ন্ত্রণ হারাইয়া উলটাইয়া যায়। বিস্ময়ের ব্যাপার হইল, এই দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ পর একই জায়গায় একটি রিকশাও উলটাইয়া যাইবার উপক্রম হয়। পরে জানা গেল, এই এলাকায় ঘন ঘন স্পিড ব্রেকার দেওয়া হইয়াছে। এই স্পিড ব্রেকারগুলি কখন এবং কাহারা দেন তাহার কোনো হদিস নাই। আরো বিপজ্জনক ব্যাপার হইল, এই স্পিড ব্রেকারগুলি দূর হইতে দেখা যায় না। নাই কোনো সাইন-সিম্বল। ফলে যে কোনো চালক একটু সতর্ক না হইলে বা গাড়ির গতি বেশি হইলে যে কোনো সময় ঘটিতে পারে দুর্ঘটনা। সংশ্লিষ্ট সড়ক কর্তৃপক্ষ আর কতদিন সকল কিছু দেখিয়াও না দেখিয়া থাকিবেন?
দেশ জুড়িয়া সড়ক-মহাসড়কে রহিয়াছে এমন হাজারো বিপজ্জনক স্পিড ব্রেকার। বিশেষ করিয়া, ব্যক্তি বা স্থানীয় উদ্যোগে যেই সকল স্পিড ব্রেকার গড়িয়া উঠিয়াছে তাহার অধিকাংশই হইয়া উঠিতেছে মরণফাঁদ। ইহাতে হিতে বিপরীত তথা উপকারের চাইতে ক্ষতিই বেশি হইতেছে। স্পিড ব্রেকারগুলির আগে-পরে প্রতীকী চিহ্ন দিতে হইবে। দিতে হইবে সতর্কবাণীও। কোথাও কোথাও প্রতি কিলোমিটারে একাধিক স্পিড ব্রেকার রহিয়াছে, যাহা অযৌক্তিক। কিছু কিছু স্পিড ব্রেকার এতটাই উঁচু যে এইগুলোর উপর দিয়া গাড়ি চলিবার সময় দুর্ঘটনা ঘটিতে পারে। আবার সিএনজির মতো বাহনের গতি কমাইয়া উঠা মুশকিল হইয়া পড়ে। এই জন্য জোরে চালাইয়া উঠিতে হয়। অনেক সময় স্টার্ট বন্ধ হইয়া যায়। এমনও দেখা যায়, সড়কের পাশে কেহ নূতন বাড়ি নির্মাণ করিল। তাহার পর বাড়ির মালিকের খেয়াল খুশিমতো দেওয়া হইল স্পিড ব্রেকার। আর হাটবাজার, দোকানপাট হইতে শুরু করিয়া চা-দোকানের সম্মুখেও অনেক সময় অবাধে স্পিড ব্রেকার নির্মাণ করা হয়।
অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত স্পিড ব্রেকারের কারণে বাইসাইকেল, মোটরসাইকেল, সিএনজি, ভ্যান প্রভৃতি চালকরা অধিক সমস্যার মধ্যে পড়িতেছেন। এই ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ (সওজ) ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সড়ক কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা কাম্য। করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে লকডাউন চলাকালে রাস্তাঘাট ফাঁকা থাকায় তাহারা এখনই অপ্রয়োজনীয় স্পিড ব্রেকারগুলি অপসারণ করিতে পারেন। বিভিন্ন সড়কের ছোটোখাটো সংস্কার এবং জেবা ক্রসিং ও স্পিড ব্রেকারসহ বিভিন্ন স্থানে সাইন-সিম্বল প্রদান ও রং করিবার কাজটিও করিতে পারেন অবলীলায়। ফাঁকা রাস্তায় যে কয়েকটা গাড়ি চলিতেছে অধিকাংশ ক্ষেত্রে গতি বেশি দেখা যাইতেছে। এই জন্য চালকদেরও সচেতন হইতে হইবে বইকি।