গৌরীপুরে দুস্থ নারীদের ভিজিডির চাল কম দেওয়ার অভিযোগ

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দুস্থ মহিলা উন্নয়ন কর্মসূচিতে প্রত্যেক কার্ডধারীকে ৬০ কেজি করে চাল কম দেওয়ায় অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে সে চাল বিতরণ করার কথা থাকলেও তা বিতরণ করা হয়েছে এক ইউপি সদস্যের বাড়ি থেকে। ভিজিডির চাল বিতরণে অনিয়মের এ ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ২ নম্বর ইউনিয়নে। অনিয়মের প্রতিবাদে ইউনিয়নের হিম্মতনগর বাজারে কার্ডধারীরা প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ করেছে। চাল ও কার্ড নেওয়ার সময় তাদের দেওয়া উেকাচের টাকা ফেরতের দাবি জানান তারা। চাল বিতরণের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট তদারকি কর্মকর্তারা কিছুই জানেন না।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসার বেগম সুলতানা আকন্দ জানান, উপজেলার ২ নম্বর গৌরীপুর ইউনিয়নের ২৮২ জনের প্রত্যেকের মার্চ মাস পর্যন্ত পাঁচ মাসের ডিও লেটার দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক কার্ডধারী প্রতি মাসে ৩০ কেজির বস্তা করে পাঁচ মাসে পাঁচ বস্তায় ১৫০ কেজি চাল পাবেন।

হিম্মতনগর গ্রামের ইসলাম উদ্দিনের স্ত্রী বেগম, রংঙ্গো খানের স্ত্রী হালেমা খাতুন, ৪৬ নম্বর কার্ডধারী জয়নালের স্ত্রী, মোনায়েম খানের স্ত্রী ফাতেমা খাতুন, মো. নজরুল ইসলামের স্ত্রী মো. মমতা খাতুন, মো. জমেদ আলীর স্ত্রী মোছা. খোদেজা খাতুন, নজরুল ইসলামের স্ত্রী মোছা. হালিমা খাতুন অভিযোগ করেন, বুধবার তাদের প্রত্যেকের পাঁচ মাসের বিতরণ বিবরণীতে ১৫০ কেজি চালের ঘরে স্বাক্ষর নেন ইউনিয়ন পরিষদ ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রবেন্দ্র চন্দ্র বিশ্বাস। ভিজিডি কার্ডে পাঁচ মাসের বিতরণ দেখানো হয়েছে। তবে চাল দিয়েছে ৯০ কেজি। কার্ডধারীদের অভিযোগ এই মেম্বার ও মহিলা মেম্বারকে ৫ হাজার করে টাকা দিয়ে তাদেরকে উপকারভোগীদের তালিকায় নাম তুলতে হয়েছে।

কার্ড বিতরণে উেকাচের বিষয়টি অস্বীকার করেন ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য রবেন্দ্র চন্দ্র বিশ্বাস। তিনি জানান, তিন মাসের চাল দেওয়া হয়েছে। বাকি দুই মাসের চালও সাত দিনের মধ্যে দিয়ে দেওয়া হবে। তবে পাঁচ মাসের ঘরে স্বাক্ষর নেওয়ার বিষয়ে তিনি  কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। অপর ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য এখলাছ উদ্দিন নয়ন বলেন, কয় মাস ডিও হয়েছে তা জানি না! তিন মাসের তিন বস্তা পেয়েছি, দিয়েছি। এ প্রসঙ্গে ২ নম্বর গৌরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রত্যেকের পাঁচ মাসের চাল বরাদ্দ আছে। যাদেরকে তিন মাসের দেওয়া হয়েছে, তাদেরকে দ্রুত সময়ের মধ্যে বাকি দুই মাসের চাল দেওয়া হবে। চাল বিতরণে কম দেওয়ার খবর পেয়ে তাত্ক্ষণিকভাবে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে চাল বিতরণ কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেঁজুতি ধর। তিনি বলেন, চাল বিতরণ বন্ধ করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মো. সোহেল রানা পাপ্পুকে পাঠানো হয়েছে।

চাল বিতরণে কম দেওয়ার বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসার সুলতানা বেগম আকন্দ। তিনি বলেন, বারবার তাগিদ দেওয়ার পরেও চেয়ারম্যান প্রতি মাসের চাল, প্রতি মাসে দেয়নি।  ২ নম্বর গৌরীপুর ইউনিয়নের ভিজিডির তদারকি কর্মকর্তা উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুর রাশিদ ও সমন্বয়কারী এনজিও কর্মকর্তা কাকন সরকার জানান, ইউপি সদস্যের বাড়ি থেকে চাল বিতরণের বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য তাদেরকে অবগত করেননি।