বিনোদন রিপোর্ট
করোনা ভাইরাসের এই বৈশ্বিক দুর্যোগে বাংলাদেশও আক্রান্ত। আমরা সবাই এখন এই রোগের ঝুঁকিতে রয়েছি। যে কেউ যেকোনো সময়ে এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এই রোগের বিরুদ্ধে চলছে মানুষের যুদ্ধ। হাতে একমাত্র অস্ত্র—পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতা। এই রোগের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে অফিস-আদালত, গণ পরিবহন সবকিছুই বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে দুর্বিপাকে পড়েছেন বিত্তহীন, অসহায়, দিনমজুর, রিকশাচালক ও অস্বচ্ছল মানুষেরা। তাছাড়া দেশের প্রান্তিক মানুষেরা করোনা সম্পর্কিত সতর্কতামূলক ব্যবস্থাগুলো সম্পর্কেও ততটা সচেতন নয়। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদির পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে কিছু পদক্ষেপ।
এরইমধ্যে গত ১ এপ্রিল ইত্যাদির উদ্যোগে ফাগুন অডিও ভিশনের কর্মীরা এবং ইত্যাদিতে প্রদর্শিত অসহায় শিশুদের চিকিত্সা সহায়তায় এগিয়ে আসা আরিফ, নাজমুল ও তাদের স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মীরা একযোগে রাজধানীর মিরপুর-১, ২, ১০, টোলারবাগ, টেকনিক্যাল, শ্যামলী, ধানমন্ডি লেক, শাহবাগ, হাতিরঝিল, বেগুনবাড়ি বস্তি, বাড্ডা, রামপুরা, শাহজাদপুর, কুড়িল ও কালশীর মোট ১৫টি পয়েন্টে অসহায়, দিনমজুর, অস্বচ্ছল ২০০টি পরিবারের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করে। এছাড়া গত ২ এপ্রিল ইত্যাদিতে প্রদর্শিত ফেসবুকে সেবাদানকারী মামুন বিশ্বাসের মাধ্যমে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলা সদরের আলহাজ্ব সিদ্দীক উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা এবং সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে করোনা ভাইরাসজনিত সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে যথাযথভাবে ২০০টি অসহায় পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। এর পাশাপাশি গত ৩১ মার্চ থেকে ইত্যাদির উদ্যোগে চলছে দেশব্যাপী সচেতনতামূলক কার্যক্রম। এসব কার্যক্রমেও অংশ নিচ্ছেন ইত্যাদিতে প্রদর্শিত বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি। তাদের সবাইকে একত্রিত করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষদের সচেতন করার জন্য স্ব স্ব এলাকায় মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচারণার উদ্যোগ নিয়েছেন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব হানিফ সংকেত। এরমধ্যে ইত্যাদিতে প্রদর্শিত ছাদ কৃষির প্রবর্তক গ্রিন সেভার্সের প্রধান আহসান রনির তত্ত্বাবধানে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক মো. মামুনুর রেজার নেতৃত্বে নওগাঁ জেলার পত্নীতলার ১১টি ইউনিয়ন। মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন। তানভীর আনজুম তুষারের নেতৃত্বে সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন। এই বৈশ্বিক মহামারি রোধে হানিফ সংকেতের উদ্যোগে একজোট হয়ে যে যেখানে যেভাবে পারছেন সাহায্য সহযোগিতার পাশাপাশি গ্রাম-গঞ্জে মানুষকে সচেতন করার কাজ করে চলছেন। মুখে তাদের একটিই শ্লোগান—‘সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে মোরা পরের তরে।’