চাঁড়ালকাঁটা নদী

রাত থেকে সকাল পর্যন্ত বালু উত্তোলনের পর বিক্রি!

কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) সংবাদদাতা

উপজেলায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বালুদস্যুরা। চাঁড়ালকাঁটা নদীর খননকৃত বালু অবৈধভাবে ট্রাক্টরে করে তুলে নেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন ১৫-২০টি পয়েন্ট থেকে বালু নেওয়া হচ্ছে।

সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে ৬৪ জেলায় ছোটো-বড়ো নদী, খাল ও জলাশয় পুনর্খনন প্রকল্পের আওতায় নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় চাঁড়ালকাঁটা নদীর ২৫ কিলোমিটার অংশ খননের জন্য প্রায় ৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। চলতি বছরের প্রথম দিকে নদী খননের কাজ শুরু করে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সরকারিভাবে খননকৃত চাঁড়ালকাঁটা নদীর ১৫-২০টি পয়েন্ট থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছেন বালু ব্যবসায়ীরা। বাহাগিলি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান শাহ দুলু বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নজরদারি না থাকায় প্রতিদিন রাতের আঁধারে এবং কাকডাকা ভোর থেকে শুরু করে সকাল ৯টা পর্যন্ত যে যার মতো বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে। এতে এক দিকে যেমন সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে অপর দিকে গ্রামীণ রাস্তাঘাট চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।পুটিমারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু সায়েম বলেন, আমি জেনেছি রাতের আঁধারে বালু দস্যুরা এসব বালু বিক্রি করছে। বালু ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কিছু প্রভাবশালী জড়িত রয়েছে ।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুল কালাম আজাদ বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো কর্মকর্তা সরকারি নদী খননের বালু বিষয়ে আমার সঙ্গে কোনো পরামর্শ করেনি। তার পরও গতমাসে পুটিমারী ইউনিয়নের সালটিবাড়ি গ্রামে নদী থেকে বালু উত্তোলনের সময় দুই জনকে আটক করে ১৫ দিন করে জেল এবং সর্বশেষ বৃহস্পতিবার পুলিশ পাঠিয়ে একটি বালু বোঝাই ট্রলি আটক করে সহিদার রহমান নামে ট্রলির চালককে সাত দিনের জেল দেওয়া হয়েছে। বালু বোঝাই গাড়িটি থানায় রয়েছে।

সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, নীলফামারী জেলার আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে বালু বিক্রির বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। তাছাড়া বর্তমানে করোনা ভাইরাসের কারণে সাময়িক সমস্যা হচ্ছে।