বোরহান বিশ্বাস
করোনার ভাইরাস প্রতিরোধে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে জীবাণুনাশক ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে সপ্তাহে অন্তত একবার ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এ কাজটি চালিয়ে যেতে পারে। করোনা প্রতিরোধে বারবার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার কথা বলা হচ্ছে। দিনে বেশ কয়েকবার হাত ধোয়ার কথা বলা হচ্ছে। হাঁচি-কাশিতে শিষ্টাচার বজায় রাখার কথা বলা হচ্ছে। প্রয়োজনে মাস্ক ব্যবহারের কথা বলা হচ্ছে। এসবই একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর জীবনের অনুষঙ্গ।
আমাদের বাঙালিদের মধ্যে হাত না ধোয়ার একটা প্রবণতা আছে। বিশেষত গ্রামাঞ্চলে। ছোটোবেলা থেকেই অভ্যাসটি গড়ে তুলতে হয়। নিয়মিত হাত ধোয়ার চর্চা শেখাতে ইউনিসেফ মিনা কার্টুনের মাধ্যমে অনেক বছর আগে হাত ধোয়ার বিষয়টি তুলে এনেছে। বাস্তবে এর প্রয়োগ যত্সামান্যই। হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়তেই বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও প্রতিবছর ১৫ অক্টোবর ‘হাত ধোয়া দিবস’ পালিত হয়ে আসছে। জানা যায়, সঠিকভাবে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস করতে পারলে প্রায় ২০টি রোগের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অনেকেই অকারণে যখন-তখন চোখ, মুখ, কান, নাকে হাত দিয়ে থাকেন। বিষয়গুলো যেমন শিষ্টাচারবহির্ভূত, তেমনি ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যরক্ষার জন্যও হুমকিস্বরূপ।
শুধু করোনা আক্রান্ত রোগী ও তাদের সেবার জন্য নিয়োজিতদেরই মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সাধারণদের মাস্ক ব্যবহার না করলেও চলবে। তবে বাংলাদেশে ধুলোবালি, সাধারণ সর্দি-কাশির যে সমস্যা তা থেকে বাঁচতে অনেকেই ডাক্তারদের পরামর্শে মাস্ক ব্যবহার করে থাকেন। করোনা প্রতিরোধে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হচ্ছে—নিজ গৃহে অবস্থান করা। বিশেষ প্রয়োজনে বাইরে বেরুলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাফেরা করা। করোনার কোনো প্রতিষেধক এ পর্যন্ত আবিষ্কার হয়নি। তবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন গবেষক, বিজ্ঞানীরা। আপাতত ‘প্রিভেনশন বেটার দেন কিওর’ নীতিতেই সবাইকে চলতে হবে।
বিশ্বের কমপক্ষে ৩৫টিতে দেশে এখন লকডাউন চলছে। প্রতিটি দেশ যার যার মতো করে বাঁচার চেষ্টা করছে। নিজস্ব বুদ্ধিমত্তা ও উদ্যোগ নিয়ে রাষ্ট্রগুলো কর্মপন্থা খুঁজে বের করার প্রাণান্তকর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। উন্নত দেশগুলোর মতো বাংলাদেশ সরাসরি দীর্ঘমেয়াদে লকডাউনে যায়নি। এর যথেষ্ট কারণও আছে। মূলত আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট চিন্তা করেই পশ্চিমা বিশ্বের মতো অনেকদিন লকডাউন ঘোষণা করা হয়নি। দেশের সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত।
আমাদের সবচেয়ে বড়ো অস্ত্র মনোবল। যে জাতি নয় মাস সশস্ত্র যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে, ঝড়-ঝঞ্ঝায় লড়াই করে বেঁচে থাকতে শিখেছে তাদের হারানোটা কঠিন। যে জাতির অর্ধেকের বেশি উদ্যমী তরুণ, উদ্ভাবনী শক্তি নিয়ে নতুন দিনের আশায় যারা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রত্যয়ী তারা জয়ী হবেই। আমাদের সবচেয়ে দুর্বলতা অতি আবেগপ্রবণতা। আবেগপ্রবণ হয়েই অনেক সময় আমরা ধৈর্য হারিয়ে নিয়ম ভঙ্গ করি।
মনে রাখতে হবে, করোনা সব সময়ের জন্য থেকে যাবে না। কিছু সময়ের জন্য এটি দানব হয়ে মানুষের প্রাণ সংহার করছে বটে। সেই মানুষই আবার করোনার জীবন বধ করবে এক সময়। এটা সময়ের ব্যাপার মাত্র। আমাদের এখন শুধু সরকার নির্দেশিত কথা মেনে চলতে হবে। যথাসম্ভব ঘরে অবস্থান করতে হবে।
ঢাকা