গাইবান্ধায় করোনা রোধে ব্যস্ত প্রশাসন
তাজুল ইসলাম রেজা, গাইবান্ধা প্রতিনিধি
বিশ্ব জুড়ে করোনা ভাইরাসের আতঙ্কের মধ্যে গাইবান্ধার প্রশাসন যখন করোনা প্রতিরোধে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন, তখন গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানি বাজার এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহাধুম পড়েছে। এদিকে দিনে ঘরের বাইরে বের হওয়া নিষেধ। তাই রাতের আঁধারে ‘সরকারি ভর্তুকি দিয়ে কৃষি কাজের জন্য আমদানি করে নিয়ে আসা’ ট্রাক্টর (কাঁকড়া) দিয়ে পরিবহন করে এসব বালু গাইবান্ধার বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া বালুবাহী ‘অনিরাপদ এসব যানবাহন’ ট্রাক্টর (কাঁকড়া)-এর বিকট শব্দে সাধারণ মানুষ নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে। এলাকার প্রভাবশালী রোস্তম আলী ও মহির উদ্দিন এসব বালু উত্তোলন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার সরেজমিন দেখা যায়, গাইবান্ধা শহর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে কামারজানি বাজার। এই কামারজানির বুক চিরে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র। দীর্ঘদিন খনন না করাসহ বিভিন্ন কারণে নদিটি শুকিয়ে গেছে। ফলে দুই তীরে জেগে উঠেছে ধুধু বালুচর। দিনের বেলায় এ চরে অবৈধভাবে খনন করে কিছু শ্রমিক বালু স্তূপ করে রাখছেন। আবার কেউ কেউ ঐ স্তূপ থেকে ট্রাক্টর ভড়াচ্ছেন। কারো মুখে নেই মাস্ক। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শ্রমিক জানালেন, দিনে ঘর থেকে বের হওয়া নিষেধ। তাই দিনে গোপনে কিছু কাজ এগিয়ে রাখছি। মূল কাজ হবে রাতে।
তারা আরো বলেন, বালু তুলতে কাউকে টাকা দিতে হয় না। যত বালু তোলা যাবে, তত লাভ হবে। নির্মাণকাজে ব্যবহূত এক ট্রাক্টর (কাঁকড়া) বালু বিক্রি হয় ১ হাজার ৬০০ টাকায়। স্থানীয়রা জানান, এভাবে গত এক মাস ধরে প্রতিদিন রাত ৯টা থেকে ভোররাত পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র থেকে উত্তোলনকৃত এসব বালু ২৫ থেকে ৩০টি ট্রাক্টর (কাঁকড়া) দিয়ে পরিবহন করে জেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। ফলে ট্রাক্টর (কাঁকড়া)-এর বিকট শব্দে সড়কের দুই পাশের এলাকার সাধারণ মানুষকে নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে।
গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালের বালুমহাল আইনের ১১ ধারায় বলা হয়েছে, ‘ইজারা ব্যতীত এসব বালুমহাল হইতে বালু বা মাটি উত্তোলন ইত্যাদি ও রাজস্ব আদায় নিষিদ্ধ।
তিনি আরো জানান, ‘অবৈধভাবে এই বালু উত্তোলনের কারণে কামারজানি বাজারের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হওয়া ব্রহ্মপুত্র নদ বাজারের দিকে (নিকটে) আরো গভীর হয়ে যাচ্ছে। ফলে এই বালু উত্তোলন এখনই বন্ধ করা না হলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ব্রহ্মপুত্র নদ ভাঙন আরো ভয়াবহ হবে। নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে কামারজানি বাজার।
কামারজানি বাজার এলাকার সংস্কৃতিকর্মী এম সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘বালুমহাল আইনের প্রয়োগ না থাকায় কামারজানিতে বেপরোয়াভাবে অবৈধ বালু উত্তোলন ও পরিবহন চলছে। ঘটনাটি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’
কামারজানি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুস সালাম বলেন, বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। গাইবান্ধা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রসূন কুমার চক্রবর্তী কামারজানিতে বালু উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, বালু উত্তোলন বন্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরদিকে অভিযুক্ত বালু উত্তোলনকারী রোস্তম আলী ও মহির উদ্দিন বলেন, সরকারি জায়গা থেকে বালু উত্তোলন করছি। বিষয়টি নিয়ে অযথা কিছু মহল ঈর্ষা করে এসব বানোয়াট অভিযোগ তুলছে।