ব্রহ্মপুত্রে বালু তোলার ধুম

গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানি বাজার এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদে দেদারে চলছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন। রাতের আধারে সরকারি ভুর্তুকি দিয়ে কৃষি কাজের জন্য আমদানি করে নিয়ে আসা’ ট্রাক্টর দিয়ে এই সব বালু গাইবান্ধার বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। রাতভর বালুবাহী ট্রাক্টরগুলোর বিকট শব্দে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। অভিযোগ এলাকার প্রভাবশালী রোস্তম আলী ও মহির উদ্দিনের বিরুদ্ধে। 

শুক্রবার সরেজমিনে, গাইবান্ধা শহর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে কামারজানি বাজার সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদে এমন চিত্র দেখা গেছে। দিনের বেলায় ]চরে অবৈধভাবে খনন করে কিছু শ্রমিক বালু স্তুপ করে রাখছেন। আবার কেউ কেউ ওই স্তুপ থেকে ট্রাক্টর ভড়াচ্ছেন। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শ্রমিক জানালেন, দিনে ঘর থেকে বের হওয়া নিষেধ। তাই দিনে গোপনে কিছু কাজ এগিয়ে রাখছি। মূল কাজ হবে রাতে। 

তারা আরও বলেন, বালু তুলতে কাউকে টাকা দিতে হয়না। যত বালু তোলা যাবে, তত লাভ হবে। নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত এক ট্রাক্টর বালু বিক্রি হয় এক হাজার ৬০০ টাকায়।

স্থানীয়রা জানান, এভাবে গত একমাস ধরে প্রতিদিন রাত ৯টা থেকে ভোররাত পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র থেকে উত্তোলনকৃত এসব বালু ২৫ থেকে ৩০টি ট্রাক্টর দিয়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। ফলে ট্রাক্টরের বিকট শব্দে সড়কের দুই পার্শ্বের সাধারণ মানুষকে র্নিঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে। বালু মহাল থেকে ইজারা ছাড়া বালু, মাটি তোলা এবং নিয়ে যাওয়া নিষিদ্ধ হলেও কামারজানি এলাকার কেউ এই আইন মানছেন না। 

কামারজানি বাজারের ব্যবসায়ী আলমগীর কবির বলেন, অবৈধভাবে এই বালু উত্তোলনের কারণে কামারজানি বাজারের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হওয়া ব্রহ্মপুত্র নদ বাজারের দিকে (নিকটে) আরও গভীর হয়ে যাচ্ছে। ফলে এই বালু উত্তোলন এখনই বন্ধ করা না হলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ব্রহ্মপুত্র নদ ভাঙ্গন আরো ভয়াবহ হবে। 

কামারজানি বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী টিটু মিয়া বলেন, বাজার সংলগ্ন নদের তলদেশ থেকে বালু উত্তোলনের কারণে ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে। পাশাপাশি শব্দ দুষন হচ্ছে। এ নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও মেম্বরদের বলেও প্রতিকার মেলেনি।

আরও পড়ুন: এখনও সহযোগিতা পায়নি ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীর পরিবারগুলো

এদিকে কমারজানি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুস সালাম বলেন, বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। 

গাইবান্ধা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রসূন কুমার চক্রবর্তী কামারজানিতে বালু উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, বালু উত্তোলন বন্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  

অপরদিকে অভিযুক্ত বালু উত্তোলনকারী রোস্তম আলী ও মহির উদ্দিন বলেন, সরকারি জায়গা থেকে বালু উত্তোলন করছি। বিষয়টি নিয়ে অযথা কিছু মহল ঈর্ষা করে এই সব বানোয়াট অভিযোগ তুলছে। 

ইত্তেফাক/এসি