করোনার প্রভাবে বগুড়ায় পানির দামে সবজি

দেশব্যাপী করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় তার প্রভাব পড়েছে বগুড়ার সবজির হাটগুলোতে। বগুড়ার প্রধান সবজির হাটে পাইকারি পর্যায়ে সব ধরনের সবজি ‘পানির দরে’ বিক্রি হচ্ছে।

দেশে সবজির অন্যতম জোগান যায় বগুড়ার মহাস্থানহাট থেকে। অধিকাংশ সবজির দাম চার গুন পর্যন্ত কমে এখন প্রতি কেজি ২ টাকা থেকে ১০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে কমেছে মুলার দাম। দুই সপ্তাহ আগের ১০ টাকা কেজি মুলা বৃহস্পতিবার এই হাটে ২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। বৃহস্পতিবার ৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে বেগুন, টমেটো, গাজর, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, পেঁপে, মিষ্টিকুমড়াসহ অধিকাংশ সবজি। কাঁচামরিচ, শসা ও বরবটি বিক্রি হয়েছে ১০ টাকা কেজি দরে। ৭৫ টাকা কেজির পেঁয়াজ নেমেছে ২২ টাকা কেজিতে। করোনা ভাইরাসের কারণে হাটে ক্রেতা না থাকায় সব ধরনের সবজির পাইকারি বাজারমূল্যে ধস নেমেছে বলে জানিয়েছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।

শিবগঞ্জের অনন্তপুর গ্রামের ফজর আলী বলেন, হালচাষ, বীজবপন, সেচ খরচ, সার, কীটনাশক ও নিড়ানি দেওয়া, জমি পত্তনিসহ সব মিলিয়ে এক বিঘা জমিতে মুলা চাষে খরচ গড়ে ২০ হাজার টাকা। খেত থেকে মুলা তোলা, ধোয়া ও হাট পর্যন্ত পরিবহন খরচ বিঘায় আরো ৭ হাজার টাকা।  সেই হিসাবে এক বিঘা জমিতে মুলা চাষে খরচ ২৭ হাজার টাকা। অন্যদিকে এবার বিঘাপ্রতি মুলাতে ফলন হয়েছে ১৫০ মণ। ৮০ টাকা মণ দরে এক বিঘা জমির মুলা বিক্রি করে মিলছে ১২ হাজার টাকা। অর্থাত্ বিঘাপ্রতি          লোকসান প্রায় ১৫ হাজার।

দীঘলকান্দি গ্রামের কৃষক শরিয়ত উল্লাহ বলেন, এক বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করেছি। ফলনও এবার বাম্পার হয়েছে। এক মাস আগে এ হাটে টমোটো বিক্রি করেছি ৩৫ টাকা কেজি দরে। এখন সেই টমোটা বিক্রি করতে হচ্ছে ৫ টাকা কেজি দরে। কৃষকেরা বলেন, করোনার আগে এই হাটে গড়ে দুই কেজি ওজনের একটি বাঁধাকপি বিক্রি করে কৃষক পেয়েছেন ১৭ টাকা। এখন তা ৫ টাকায় নেমে এসেছে। ফুলকপির পাইকারি পর্যায়ে দাম ছিল ২০ টাকা। এখন তা ৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ১৫ টাকা কেজি দরের শিমও মিলছে ৫ টাকায়।

মহাস্থানহাট কাঁচা ও পাকা মাল আড়ত্ ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বলেন, মহাস্থানহাটের সবজির জোগান যায় রাজধানীর কারওয়ানবাজার, চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজার, সিলেট ও ফেনীসহ বিভিন্ন জেলায়। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে কোথাও সবজির চাহিদা নেই।