১০ টাকায় চাল পাবেন রাজধানীর কর্মহীন শ্রমজীবীরা

করোনার কারণে টানা ছুটি আর ঘর থেকে বাইরে বের না হওয়ার বিধিনিষেধে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন রাজধানীর স্বল্প আয়ের শ্রমজীবী মানুষ। থমকে গেছে তাদের জীবনযাত্রা। আয় না থাকায় নিদারুণ কষ্টের মধ্যে দিন পার করতে হচ্ছে তাদের। এবার এই কর্মহীন শ্রমজীবী মানুষের জন্য ‘বিশেষ ওএমএস’ চালু করছে সরকার। আগামীকাল রবিবার থেকে রাজধানীতে এই ওএমএস চালু হবে। প্রতি কেজি চালের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা। সপ্তাহে তিন দিন রবি, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার চাল বিতরণ করা হবে।

খাদ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, যে কেউ বিশেষ ওএমএসের আওতায় ১০ টাকা কেজি দরে চাল কিনতে পারবে না। শুধু কর্মহীন শ্রমজীবী মানুষই এ চাল কিনতে পারবে। সেজন্য রাজধানীর ৭৩টি বস্তির শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে এই চাল বিক্রি করা হবে। আর এক পরিবারের একজনই এই চাল নিতে পারবেন। প্রত্যেক পরিবার পাবে পাঁচ কেজি করে চাল। এই হিসাবে ৭৩টি বস্তির ৩৯ হাজার ১৮০টি পরিবারের কাছে এই চাল বিক্রি করা হবে। পরিবারের যে কোনো একজন সদস্য তার জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে এই চাল নিতে পারবেন।

এ প্রসঙ্গে চিফ কন্ট্রোলার অব ঢাকা রেশনিং উত্পল কুমার সাহা গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, করোনার কারণে রাজধানীতে অনেক শ্রমজীবী মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। তাদের কোনো আয় নেই। তাদের জন্যই এই চাল বিক্রি করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগামীকাল রবিবার মহাখালী সাততলা বস্তি ও মিরপুরের ঝিলেরপাড় বস্তিতে এই চাল বিক্রি করা হবে। জেলা প্রশাসন, স্থানীয় ওয়ার্ড কমিশনার ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা এ সময় উপস্থিত থাকবেন। লাইনে একটা নির্দিষ্ট দূরত্বে দাঁড়িয়ে সবাইকে চাল নিতে হবে।

উল্লেখ্য, রাজধানীতে ওএমএস চালু থাকলেও স্বল্প আয়ের শ্রমজীবী মানুষের জন্য কম দামে চাল কেনার জন্য নেই কোনো খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি। করোনার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমজীবী মানুষ বিপদে আছেন। ফলে ওএমএসের চালের দাম ৩০ টাকা থেকে কমিয়ে ১০ টাকা নির্ধারণ করে তা কর্মহীন শ্রমজীবী মানুষের কাছে বিক্রি করা হবে। করোনার কারণে এসব শ্রমজীবী মানুষ যতদিন কর্মহীন থাকবেন, ততদিন তাদের ১০ টাকা কেজি দরে চাল দেওয়া হবে। তবে এ সময় সাধারণ ওএমএসে চাল বিক্রি বন্ধ থাকলেও রাজধানীর ১২০টি পয়েন্টে ১ টন করে আটা বিক্রি করা হবে।

চাল-ডালের দাম বেড়েছে

রাজধানীর খুচরা বাজারে সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে। গত সপ্তাহে মানভেদে প্রতি কেজি চালে ২ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গতকাল বাজারে প্রতি কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে নাজিরশাইল ও মিনিকেট ৬০ থেকে ৬৮ টাকা, ২ টাকা বেড়ে পাইজাম ও লতা ৫০ থেকে ৫৬ টাকা এবং ২ টাকা বেড়ে ইরি ও স্বর্ণা ৪০ থেকে ৫০ টকায় বিক্রি হয়। কিন্তু এক মাস আগেও প্রতি কেজি নাজিরশাইল ও মিনিকেট ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, পাইজাম ও লতা ৪৮ থেকে ৫০ টাকা, ইরি ও স্বর্ণা ৩৪ থেকে ৩৮ টাকায় বিক্রি হয়।

চালের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে কাওরান বাজারের এক চাল ব্যবসায়ী বলেন, কারোনার প্রাদুর্ভাব কতদিনে কাটবে তা নিয়ে মানুষের মধ্যে একটা অনিশ্চয়তা কাজ করছে। তাই বেশির ভাগ মানুষ প্রয়োজনের অতিরিক্ত চাল কিনে মজুত করছে। তাই দাম বেড়েছে। তবে ভোক্তাদের অভিযোগ, চাহিদা বাড়ায় একশ্রেণির অসত্ ব্যবসায়ী চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। দাম বেড়েছে ডালেরও। মাঝারি দানা মসুর ডাল কেজিতে ২৫ টাকা বেড়ে ১০০ থেকে ১১০ টাকা ও বড়ো দানা মসুর ডাল ৫ টাকা বেড়ে ৭৫ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ছোটো দানা মসুর ডাল কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে মানভেদে ১১০ থেকে ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।