‘পথে গরিব অসহায় মানুষগুলোকে দেখে সপ্তাহখানেক আগেই সিদ্ধান্ত নেই, নিজের যে টাকা আছে তা দিয়েই এক বেলা হলেও খাওয়াব। ব্যাংকে সামান্য কিছু টাকা আছে, সেই টাকা তুলতে যাই, কিন্তু বিভিন্ন জটিলতায় তাও হাতে পাই না। শেষে স্বামীকে বলি তুমি টাকা দাও, আমি ব্যাংক থেকে তুলে দিয়ে দেব’—কথাগুলো বলছিলেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নার্স শেফালি আক্তার। থাকেন কল্যাণপুর মিজান টাওয়ারে। মাত্র বছর চারেক আগেই চাকরিজীবন শুরু করেন। স্বামী মো. রাসেল খান কলাবাগান এলাকার একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। অর্থবিত্তের মালিক নন তারা। তবে মন আছে তাদের, অনেক বড়ো। তাইতো করোনার প্রাদুর্ভাবে পথে না খেয়ে থাকা অসহায় হতদরিদ্র মানুষের জন্য এক বেলার খাবার নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
গতকাল শুক্রবার জুমার পর রাজধানীর মিরপুর, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলাবাগান, ধানমন্ডি ও বসুন্ধরা এলাকার সাত শতাধিক অসহায় দরিদ্র নারী, পুরুষ ও শিশুদের হাতে খাবার তুলে দেন শেফালি ও তার স্বামী রাসেল। ভুনাখিচুরি ও মুরগির মাংস রান্না করে ওয়ান টাইম প্যাকেটে করে দুস্থদের মধ্যে বিতরণ করেন তারা। পথে থাকা রিকশাওয়ালা, দিনমজুর আর শিশুরা তার খাবার খায়। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বহির্বিভাগে কর্মরত শেফালির উদ্দেশ্য তাকে দেখে যেন সারাদেশে কর্মরত তার সহকর্মী ও কর্মজীবীরা অসহায় লোকগুলোর পাশে এসে দাঁড়ান। স্বাধীনতা নার্সেস পরিষদ (স্বানাপ) মহাসচিব ইকবাল হোসেন সবুজ বলেন, ‘আজকে শেফালি নিজের টাকায় এই আয়োজন করেছেন। পরের সপ্তাহে আমরা সবাই মিলে এ আয়োজন করব।’