কর্মহীন কয়েক হাজার শ্রমিক-কর্মচারী
এইচ এম দুলাল, মোংলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা
করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ্বে মন্দাভাব দেখা দেওয়ায় মোংলাবন্দরে জাহাজ আগমন নির্গমণের সংখ্যা কমে গেছে। যার প্রেক্ষিতে এখানকার জাহাজ ও জেটিতে পণ্য ওঠানামার সঙ্গে জড়িত কয়েক হাজার শ্রমিক-কর্মচারী প্রায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে। ‘নো ওয়ার্ক, নো পে’ ভিত্তিতে কাজ করা এসব শ্রমিক কর্মচারী কাজের অভাবে এখন পরিবার পরিজন নিয়ে অনেকটা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
বন্দরের হারবার ও ট্রাফিক বিভাগ সূত্র জানায়, সম্প্রতি করোনার কারণে এ বন্দরে এখন গড়ে প্রতিদিন ১০-১১টি জাহাজের অবস্থান থাকছে। পাশাপাশি কমে গেছে বন্দর জেটির অভ্যন্তরের অনেক কাজ।
মোংলা বন্দর শ্রমিক কর্মচারী সংঘের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক সেন্টু জানান, জাহাজ আগমনের সংখ্যা কমে যাওয়ায় ‘নো ওয়ার্ক, নো পে’ ভিত্তিতে কাজ করা এসব শ্রমিক কর্মচারীর কাজ অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। এ অবস্থায় অনেকটা কর্মহীন থাকায় শ্রমিক কর্মচারীরা পরিবারপরিজন নিয়ে কোনোমতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
গতকাল শুক্রবার সকালে মোংলা শহরের কয়েকটি শ্রমিক আবাসিক এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, বর্তমান সময়ে শ্রমিকরা খুবই কষ্টের মধ্যে রয়েছেন। বিভিন্ন মাধ্যম থেকে যে সহায়তা ও ত্রাণ পাওয়া যাচ্ছে তা চাহিদার তুলনায় খুবই অপ্রতুল। অপর দিকে স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রাথমিক উপকরণ তারা বন্দর কর্তৃপক্ষ বা স্টিভিডোরসের কাছ থেকে পাচ্ছেন না।
মোংলা বন্দর ব্যবহারকারী ও শিপিং এজেন্ট মালিক শেখ বদিউজ্জামান টিটু করোনা প্রভাবের কারণে শ্রমিক কর্মচারীদের কাজ কমে যাওয়ার কথা নিশ্চিত করে বলেন, এ অবস্থায় শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে পড়ে পরিবারপরিজন নিয়ে অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল শেখ মো. আবুল কালাম আজাদ শ্রমিকদের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শ্রমিকদের মালিক বন্দর কর্তৃপক্ষ নয়, তারা স্টিভিডোরসদের (ঠিকাদার) অধীনে কাজ করে। ঠিকাদারই তাদের দেখভাল করে থাকে। কাজকালীন সময়ে শ্রমিকদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রাথমিক উপকরণ প্রদানের বিষয়ে ইতিমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। করোনা দুর্যোগে বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ৫ কোটি টাকা অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শ্রমিক কল্যাণ তহবিল থেকে শ্রমিকদের কোনো সহায়তা করা যায় কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।