বিবিসি
১৯১৮ সালের শেষের দিকে ভয়ংকর এক মহামারি সারা বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। ঐ মহামারির নাম ছিল স্প্যানিশ ইনফ্লুয়েঞ্জা। মানব ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী এই ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছিল ৫ কোটিরও বেশি মানুষের। এই সংখ্যা প্রথম বিশ্বযুদ্ধে নিহত মানুষের সংখ্যার চাইতেও বেশি। সে সময় সারা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশেরই মৃত্যু হয়েছিল এই ভাইরাসে।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ তখন প্রায় শেষ হয়ে আসার পথে। যুদ্ধ শেষে সৈন্যরা ফিরে যাচ্ছে যার যার দেশে। কিন্তু তারা কল্পনাও করতে পারেনি যে বাড়িতে তাদের জন্য অপেক্ষা করছিল নতুন এক শত্রু। বিবিসির একজন ব্রডকাস্টার অ্যালেস্টার কুক, যিনি ‘লেটার ফ্রম আমেরিকা’ অনুষ্ঠানের জন্য বিখ্যাত হয়েছিলেন, তিনিও শৈশবে এই স্প্যানিশ ফ্লুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। পরে তিনি সেই অভিজ্ঞতার কথা ২০০৪ সালে এক সাক্ষাত্কারে তুলে ধরেছিলেন এভাবে: ‘আমি বিছানায় গেলাম এবং হঠাত্ করেই অসুস্থ বোধ করতে লাগলাম। জীবনে নিজেকে কখনো এতোটা অসুস্থ মনে হয়নি। শরীরে প্রচণ্ড রকমের ব্যথা হচ্ছিল। ক্লান্তি আর অবসাদে একেবারে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিলাম। গায়ে ছিল প্রচণ্ড জ্বর।’ এইডা ডারউইন নামের একজন নারী বর্ণনা করছিলেন যে তার পিতাও কীভাবে এই ফ্লুতে আক্রান্ত হন। রণাঙ্গনে একটি সামরিক হাসপাতালে সৈন্যদের নার্সিং সেবা দিচ্ছিলেন তার পিতা এবং সেখানেই তিনি আক্রান্ত হন। তিনি বলেন, ‘সেদিন সোমবার আমার বাবা অসুস্থ হন। তিনি তো পুরো যুদ্ধের সময় বেঁচে ছিলেন। কতো বিপদ ছিল তার। কিন্তু বাড়িতে ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে গেলেন।’ কিন্তু কথা হচ্ছে এর নাম স্প্যানিশ ফ্লু কেন হলো? লন্ডন কুইন ম্যারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েলকাম ট্রাস্টের গবেষক মার্ক হনিগসবাউম বলেন, স্প্যানিশ ফ্লু নামকরণের পেছনের কথা হলো স্পেনের সংবাদ মাধ্যম এই ফ্লুর খবরটি মুক্তভাবে পরিবেশন করছিল। ‘ যখন এই মহামারি শুরু হয় তখন স্পেনের রাজ পরিবার এবং অন্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের অসুস্থতা হওয়ার খবর স্পেনে ফলাও করে প্রচার করা হয়েছিল।
০