করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে গণপরিবহন বন্ধ ঘোষণা করা হলেও ঢাকার উদ্দেশে বগুড়া থেকে অনেক বাস ছেড়েছে। গার্মেন্টস খুলে দেওয়ার ঘোষণার পর শ্রমিকরা চাকরি রক্ষার জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশে এসব বাসে উঠে পড়েন। গতকাল শনিবার বগুড়া-ঢাকা মহাসড়কে বগুড়ার চারমাথা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে এমন চিত্র দেখা গেছে।
ঢাকাগামী বাস চলাচলের খবর পেয়ে পুলিশ একটি বাস আটক করে রেকার দিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরে যাত্রীদের বাস থেকে নামিয়ে দিয়ে তাদের টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করে পুলিশ। মহাসড়ক ঘুরে দেখা গেছে, চারমাথা ও তার আশপাশের পেট্রোল পাম্প থেকে বাসগুলো যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাচ্ছে। তবে ঐ বাসাগুলো ঢাকা পর্যন্ত পৌঁছতে পেরেছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সাব্বির নামে এক গার্মেন্টস শ্রমিক নওগাঁ থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বগুড়ার চারমাথায় আসেন। সেখান থেকে আগমন পরিবহনের একটি বাসে ৫০০ টাকা দিয়ে উঠে পড়েন। পরে পুলিশ ঐ বাস যেতে বাধা দিলে তিনি টাকা ফেরত নিয়ে অন্য বাসে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।
পরিবহন শ্রমিকরা জানান, মোকামতলা ও চারমাথা বাস টার্মিনাল থেকে শুক্রবার রাতে কমপক্ষে ২৫টি বাসযাত্রী নিয়ে ছেড়েছে। গতকাল সকালে ১০টি বাস চারমাথা থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। পরিবহন শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, চারমাথা থেকে বাস ছাড়ার আগে পুলিশকে বাসপ্রতি ১ হাজার টাকা এবং পথে আরো তিন স্থানে ৩ হাজার টাকা দিতে হয়। তারা বলেন, ঢাকায় গার্মেন্টসগুলো খুলে দেওয়ার কারণে শুক্রবার রাত থেকে যাত্রীদের চাপ বেড়ে গেছে।
তবে বগুড়া মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বলেন, একটা বাস ঢাকা যাওয়ার প্রস্তুতি নিলেও, সেটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রাতে ২৫টি বাস ঢাকায় গেছে কি না তার জানা নেই। বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম বদিউজ্জামান বলেন, পুলিশ কোনো বাস থেকেই টাকা নেয়নি, আমরা নিশ্চিত। পরে সকল বাস আটকে দেওয়া হয়।