আধিপত্য বিস্তার ও বালু ভরাটের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার বিকালে বরিশালের গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড ও উত্তর বিজয়পুর এলাকায় ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে ছাত্রলীগের ১০ নেতাকর্মী আহত হন। এছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে এসে আহত হন গৌরনদী থানার ওসিসহ সাত পুলিশ সদস্য। সংঘর্ষের সময় দুটি বাড়ি ও ২৩টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। গুরুতর আহত কনস্টেবল মো. মাহাবুব, সরকারি গৌরনদী কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন সুজনসহ তিন জনকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ও এক জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ছাত্রলীগের চার নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সাধীন পৌর আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য রাশেদুজ্জামান ঝিলাম অভিযোগ করে বলেন, গৌরনদী টিএন্ডটি অফিসের পশ্চিম পাশে আমার ৪৫ শতাংশ জমিতে বালু ভরাটের কাজ শুরু করেছি। শনিবার দুপুর ২টার দিকে সরকারি গৌরনদী কলেজের সাবেক ভিপি ও ছাত্রলীগের নেতা সুমন মাহামুদ মোবাইল ফোনে আমাকে হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি করে। সুমনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের ৮/১০ জন নেতাকর্মী দুপুর আড়াইটার দিকে টরকী বন্দরে আমার ভাড়া বাসায় ঢুকে আমাকে বেধড়ক মারপিট করে। এ সময় আমার স্ত্রী ও ছেলেমেয়েকেও লাঞ্ছিত করে তারা।
তবে ঝিলামের অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রলীগ নেতা সুমন মাহামুদ বলেন, আধিপত্য বিস্তার ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুবায়ের ইসলাম সান্টু ভূঁইয়ার সঙ্গে আমার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। সান্টু ভূঁইয়া ষড়যন্ত্র করে ঝিলামকে দিয়ে আমাকে তার (ঝিলাম) বাসায় ডেকে নিয়ে (আমার) দুই সমর্থকসহ আমার ওপর হামলা করে। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে গৌরনদী বাসস্ট্যান্ডে আমার সমর্থক সরকারি গৌরনদী কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন সুজনসহ তিন নেতাকর্মীকে পিটিয়ে আহত করেছে সান্টুর সমর্থকরা। এরপর সান্টু ভূঁইয়ার নেতৃত্বে ছাত্রলীগের শতাধিক নেতাকর্মী মোটরসাইকেলযোগে এসে বিকাল ৫টার দিকে আমার বাড়িতে হামলা চালিয়ে মা মিনারা বেগমকে মারধর এবং বসতঘর ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এরপর হামলাকারীরা আমার শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে আমাকে না পেয়ে ঐ বাড়ি ভাঙচুর করে। অন্যদিকে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার সঙ্গে উপজেলা ছাত্রলীগের কেউ জড়িত নয় বলে দাবি করেছেন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুবায়ের ইসলাম সান্টু ভূঁইয়া।
গৌরনদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আ. রব হাওলাদার জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে থানার ওসি গোলাম ছরোয়ার, এসআই সাধন কুমার মণ্ডল, এসআই মিজানুর রহমান, এসআই বাবুল আক্তার, কনস্টেবল মো. মাহাবুব, কনস্টেবল মো. আব্বাস ও কনস্টেবল মো. নাইম আহত হয়েছেন