রাজধানীতে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) প্রাদুর্ভাবের কারণে সমাজে অসহায় হয়ে পড়া মানুষের মধ্যে তালিকা করে প্রতিদিন ৫০০ ছিন্নমূল ও দুস্থ মানুষকে পুলিশের বেতন ও রেশনের টাকায় খাবার পৌঁছে দিচ্ছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপির) উত্তরা বিভাগ।
গতকাল শনিবার পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) নাবিদ কামাল শৈবাল বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমরা শনিবার পর্যন্ত তিন দিন খাবার দিয়েছি। করোনা দুর্যোগের সময় আমরা সমাজের অসহায় মানুষের পাশে সামর্থ্য অনুযায়ী দাঁড়াবার চেষ্টা করছি। খাবারের অভাবে অনেকেই ছোটোখাটো অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারে। ছিন্নমূল মানুষের জন্য একবেলা খাবারের ব্যবস্থা করছি। যাতে তাদের উপকার হয় এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণেও এটা কাজ করছে। এতে করে অপরাধ কর্মকাণ্ড অনেকটা কমে আসবে বলে আমরা আশা করছি।’ তিনি জানান, দুস্থ ও অসহায় মানুষকে নির্বাচিত করে প্রত্যেককে টোকেন দেওয়া হয়েছে। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে টোকেনের ঠিকানা অনুযায়ী পুলিশ সদস্যরা খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন।
উত্তরা বিভাগের দক্ষিণখান জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার হাফিজুর রহমান বলেন, মধ্যবিত্তরা অনেকে ত্রাণের জন্য জনসম্মুখে না এসে সাহায্যের জন্য পুলিশকে ফোন করছেন। আমরা উত্তরা বিভাগের অধীন ছয় থানার ৫০০ মানুষের তালিকা করেছি। তাদেরকে দুপুরের আহার হিসেবে খিচুড়ি, ডিম ও সবজি দেওয়া হচ্ছে।
দক্ষিণখান থানার ওসি শিকদার মোহাম্মদ শামীম বলেন, এই দুর্যোগের সময়ে সবারই গরিব, দুস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো উচিত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি মানুষ হিসেবে আমরা তাদের পাশে থেকে নিজেদের সাধ্যমতো সাহায্য-সহযোগিতা করছি।
তুরাগ থানার ওসি নূরুল মোত্তাকিন বলেন, তুরাগ থানা এলাকায় প্রতিদিন ১৮০ জন গরিব, ছিন্নমূল, দুস্থ ও অসহায় মানুষের মধ্যে খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন তারা।