ঘর থেকে বের হওয়ার প্রবণতা বেড়েছে

  • ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহে প্রথম প্রথম ঘরবন্দি ছিল মানুষ। যত দিন গড়াচ্ছে মানুষের ঘর থেকে বের হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। জেলা শহরে মানুষ কম বের হচ্ছে। কিন্তু উপজেলা ও গ্রামাঞ্চলের চিত্র ভিন্ন। সরকারি নির্দেশে হাটবাজারগুলো বন্ধ থাকার কথা। কিন্তু হাটবাজার বসছে এবং জনসমাগম হচ্ছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখছে না মানুষ। গায়ের সঙ্গে গা ঘেঁষে কেনাবেচা চলছে। এতে যে বিপদ বাড়ছে, সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই কারো।

অপরদিকে গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও ভ্যান, ইজিবাইক ও সিএনজি চলাচল করছে। লোকে গাদাগাদি করে যাতায়াত করছে। অনেক স্থানে সকাল বিকালে চায়ের দোকানে আড্ডা জমছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে মানুষকে ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়ে মাইকিং করা হচ্ছে। কিন্তু এক শ্রেণির মানুষ এসব ঘোষণার পরোয়া করছে না। পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান এসব স্বীকার করে বলেন, এক শ্রেণির লোককে ঘরে আটকে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তারা নিষেধ শুনছে না।

দিনাজপুরে করোনা নয়, যেন চলছে ঈদের বাজার

স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর জানান, দিনাজপুর শহরের বাহাদুর বাজারে যেন ঈদের বাজার চলছে। করোনা ভাইরাসের ভয় নেই জনমনে। গা ঘেঁষে করছেন বাজার। স্থানীয় জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্দিষ্ট জায়গায় গোল চিহ্ন এঁকে দিলেও জনসাধারণ তা একেবারে মানছেন না। বাহাদুর বাজারের চিত্র দেখে অনেকেই বলছেন, এ যেন ঈদের বাজার শুরু হয়েছে। এদিকে পাল্লা দিয়ে অটোবাইক, মোটরসাইকেলের প্রচণ্ড ভিড় বেড়েছে। এছাড়া শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে বখাটেদের সরকারি নির্দেশ অমান্য করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে।

বেতাগীতে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে কঠোর অবস্থানে প্রশাসন

বেতাগী (বরগুনা) সংবাদদাতা জানান, বেতাগী উপজেলা প্রশাসন সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে নানা পদক্ষেপ নিলেও মানুষজন তা মানছে না। ঘরে থাকার সরকারি নির্দেশনা কেউই পাত্তা দিচ্ছেন না। ফলে ক্রমেই সামাজিক দূরত্ব না মানার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

ইতিমধ্যে সরকারি নির্দেশনার আলোকে বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাজীব আহসানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে প্রতিটি এলাকায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছেন নৌবাহিনীর সদস্যরা। প্রতিটি জনপদে চলছে সেনা টহল। পাশাপাশি কাজ করছে থানা পুলিশের একাধিক ইউনিট। প্রায় প্রতিদিনই ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানসহ চলছে পুলিশ ও নৌবাহিনীর কঠোর অভিযান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাজীব আহসান বলেন, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে নৌবাহিনী, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা মাঠ পর্যায়ে বিরামহীন কাজ করছেন।

বাগেরহাটে চলছে ‘চোর-পুলিশ খেলা’

বাগেরহাট প্রতিনিধি জানান, বাগেরহাট জেলা শহরসহ গ্রামগঞ্জ ও হাটবাজারে অধিকাংশ মানুষ মানছেন না সামাজিক দূরত্ব। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সড়ক দিয়ে যাওয়ার পরপরই লোকজন ঘর থেকে দল বেঁধে সড়কে চলাচল করছেন। আড্ডা দিচ্ছেন খাবার হোটেল ও চায়ের দোকানসহ বিভিন্ন স্থানে। আবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যদের দেখলে আড়ালে একটু সরে যাচ্ছে। একইভাবে শহরে প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাসও চলছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সামাজিক দূরত্ব কর্মসূচি পালন না করা সমাজ ও রাষ্ট্র বিরোধীদের এক ধরনের ‘চোর-পুলিশ খেলা’ চলছে বাগেরহাটে।