বিপর্যয়ে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প

 করোনার প্রভাব

সায়ীদ আলমগীর, কক্সবাজার

সমুদ্রসৈকতসহ পর্যটন স্পটগুলোতে লোক সমাগম নিষিদ্ধ থাকায় কক্সবাজারে বন্ধ রয়েছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট সকল ব্যবসাবাণিজ্য। শুঁটকি উত্পাদনের মৌসুম চললেও সাগরে নামছে না ট্রলার, এতে বন্ধ রয়েছে মাছ আহরণ ও শুঁটকি উত্পাদন। পহেলা বৈশাখ, ঈদুল ফিতর সামনে রেখে গার্মেন্টস ও ডিপার্টমেন্টাল পণ্যের দোকানগুলোতে জমজমাট ব্যবসার আয়োজন থাকার কথা থাকলেও চলমান করোনা পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের লোকশানের পাল্লা ভারী হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সব মিলিয়ে পর্যটন শিল্প এবং অন্য সব ব্যবসায় জড়িতদের গুনতে হচ্ছে হাজার কোটি টাকা লোকসান।

এ ব্যাপারে হোটেল-মোটেল অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক ও হোয়াইট অর্কিড হোটেলের জিএম রিয়াদ ইফতেখার বলেন, কক্সবাজারে প্রতি বছর দেশি-বিদেশি মিলিয়ে অর্ধ কোটি পর্যটক আসেন। তাদের যাতায়াতে প্রতিদিন কয়েকশ দূরপাল্লার বাস ও ১০-১২টি বিমানের ফ্লাইট আসা-যাওয়া করে। পর্যটক সেবায় রয়েছে ৪০০ হোটেল-মোটেল ও কটেজ এবং কয়েকশ রেস্তোরাঁ। ভ্রমণ আরামদায়ক করতে গাইড হিসেবে কাজ করে শতাধিক ট্যুরিজম। বিনোদনের জন্য রয়েছে নানা পর্যটন স্পট। ভ্রমণের মুহূর্ত ফ্রেমে বন্দি রাখতে কাজ করে ৩০০ ক্যামেরাম্যান। রয়েছে শামুক-ঝিনুকের পণ্য বিক্রির হাজারো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তার মতে, করোনার প্রভাবে বিগত পক্ষকাল ধরে বন্ধ পর্যটন ব্যবসা। ধরে নেওয়া যায় এটি ঈদুল ফিতরের আগের দিন পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। সেই হিসেবে বন্ধ দাঁড়ায় প্রায়ই দুই দুই মাসের অধিক। ব্যবসা বন্ধ থাকায় বাস, প্লেন, হোটেল, রেস্তোরাঁ, ট্যুর অপারেটর, ফটোগ্রাফার এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট সকল খাতে দৈনিক প্রায় ২০-৩০ কোটি টাকার লেনদেন বন্ধ রয়েছে। সেই হিসেবে দুই মাসে বন্ধ থাকবে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার লেনদেন।

কক্সবাজার গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার বলেন, ব্যবসা বন্ধ থাকলেও মেইনটেনেন্স খরচ গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। সে হিসেবে ৪০০ হোটেল, মোটেল, কটেজ এবং রেস্তোরাঁ মালিককে চলমান এবং সামনের সময়ে কমপক্ষে অর্ধ শত কোটি টাকা লোকসান দিতে হবে। এর সঙ্গে রয়েছে ব্যাংক ঋণের সুদও।

ট্যুরস অপারেটর ঔনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজারের (টুয়াক) সূত্র মতে, ব্যবসা বন্ধ থাকলেও অফিস ভাড়া, বিদ্যুত্ বিল এবং কর্মচারীদের বেতন বাবদ অনেককে মাসে অর্ধ লাখ টাকা গুনতে হচ্ছে।  এদিকে, নাজিরারটেক শুঁটকি উত্পাদন আড়ত্ মালিক সমিতির সভাপতি আতিক উল্লাহ বলেন, মৌসুম চললেও শুঁটকি উত্পাদন ব্যাহত হচ্ছে। গুদামে শুকনো মাছ থাকলেও চাহিদা না থাকায় বিক্রি হচ্ছে না।  কক্সবাজার জেলা মত্স্য কর্মকর্তা এস এম খালেকুজাম্মানের মতে, মাছ শুকানো হচ্ছে গত বছরের তুলনায় ৪০ ভাগ কম। এছাড়া প্রায় প্রত্যেকের গুদামেই মাছ মজুত রয়েছে। পাশাপাশি মাছ সরবরাহ না থাকায় কাঁচা মাছের বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। শুধু পর্যটন ও মত্স্য শিল্পে নয়, করোনার লোকসান গুনতে হচ্ছে কাপড়, জুতাসহ নানা পণ্য ব্যবসায়ীদেরও।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি, কক্সবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম মুকুল বলেন, জেলার দোকানদাররা এবার কমপক্ষে ২০-২৫ কোটি টাকা লোকসান গুনবে। ঈদ পর্যন্ত এ অবস্থা বিরাজ থাকলে লোকসান কয়েকশ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী বলেন, করোনা বিশ্ব অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়েছে। পর্যটন জেলা হিসেবে কক্সবাজার সেই ক্ষতির ধাক্কায় পড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এটি কাটানোর পন্থা খোঁজার প্রচেষ্টা চালানো হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।