চলমান সংকটে মধ্যবিত্তদের পাশে 'সহমর্মিতা ফাউন্ডেশন'

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে দেশে চলমান সাধারণ ছুটি ঘোষণায় স্থবির হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবন। ফলে কর্মজীবীরা হয়ে পড়েছেন কর্মহীন। তাই এ কর্মহীনতা যেন তাদেরকে ফেলে দিয়েছে কঠিন সংকটে। তাছাড়া এমন সংকটে মধ্যবিত্তরাও রয়েছেন দোটানায়। চক্ষুলজ্জায় হাত পাততে অপারগ মানুষগুলোর জন্য অভিনব পদ্ধতিতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন ‘সহমর্মিতা ফাউন্ডেশন’।

অনেকেই খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করতে গিয়ে ছবি তোলা ও ভিডিও চিত্র ধারণকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। যা বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তবে এক্ষেত্রে ভিন্নভাবে কাজ করছে ‘সহমর্মিতা ফাউন্ডেশন’। যাদেরকেই খাবার দেয়া হচ্ছে, তাদের ছবি তো দুরের কথা, তাদের পরিচয়ও প্রকাশ করতে চাননা এই ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ। 

আরও পড়ুনঃ চলমান সংকটে মধ্যবিত্তদের পাশে ‘সহমর্মিতা ফাউন্ডেশন’

সহমর্মিতা ফাউন্ডেশনের পরিচালক পারভেজ হাসান বলেন, ‘সরকার দরিদ্র এবং গরীব জনগোষ্ঠীর জন্য একটা বরাদ্দ রেখেছে। তা ছাড়াও সরকার কথা দিয়েছে সবার পাশে থাকার। কিন্তু আপনি যদি একটু গভীর ভাবে চিন্তা করেন, দেখবেন। একজন গরীব মানুষ বা যিনি সবসময় চেয়ে খান। উনি কিন্তু যে কোন পরিস্থিতিতে সবার কাছে হাত পাততে পারে। কিন্তু একজন মধ্যবিত্ত কোন অবস্থাতেও তার খারাপ সিচুয়েশন কাউকে জানতে দিতে রাজি হয়না। কারণ তাদের ক্ষুধার ভয়ের থেকে চক্ষুলজ্জার ভয় বেশি থাকে।‘

সহমর্মিতা ফাউন্ডেশন এর মাধ্যমে ০১৬২৮০১৬৩৮৫ হেল্পলাইন রাখা হয়েছে। এই নাম্বারে কল করলে গ্রহীতার পরিচয় গোপন করে খাবার পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

বর্তমানে মানুষের পাশে থাকাটাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন জানিয়ে পারভেজ বলেন, ‘আমি সবসময়ই চেষ্টা করি অসহায় মানুষের প্রয়োজন এবং পরিস্থিতি বুঝে তার পাশে থাকার। কারণ আমার বিশ্বাস প্রয়োজন এবং খারাপ পরিস্থিতি মানুষকে অসহায় করে তোলে।

বর্তমানে সাভার সহ দেশের চারটি জেলায় পারভেজের নেতৃত্বে এ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। যা রাজধানী সহ দেশের অন্যান্য জেলাতেও খুব অল্প সময়ের মধ্যে শুরু করা হবে বলে জানান পারভেজ হাসান।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে ১৭ জুলাই রাজধানীর শুক্রবাদে এক শিশু তার অসুস্থ মায়ের মাথায় পানি ঢালছিল। হাসপাতালে নেয়ার মতো পরিস্থিতি না থাকায় অবুঝ শিশু তার সাধ্যমতো মায়ের সেবা করছে। হতদরিদ্র সে মা’কের পাশে দাঁড়ান পারভেজ হাসান। হাসপাতালে নিয়ে যান, চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ করে তোলেন। এ ঘটনাটি এবং ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরালে পরিণত হয়। প্রশংসা কুড়ান পারভেজ। চলে আসেন আলোচনায়। 

ইত্তেফাক/ এমএএম