চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলী খেলা বন্ধ ঘোষণা

সর্বনাশা করোনা ভাইরাসের কারণে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী আব্দুল জব্বারের বলী খেলা ও বৈশাখী মেলার আয়োজন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ১১১ বছরের ইতিহাসে শত দুর্যোগেও বলী খেলার এ আয়োজনে ছেদ পড়েনি কখনো। কিন্তু মরণব্যাধী করোনার থাবায় এবার বলী খেলা শেষ পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে আয়োজক কমিটি। গত রবিবার সন্ধ্যায় আয়োজক কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

চট্টগ্রামবাসীর সবচেয়ে বড়ো উত্সব এটি। আয়োজনটি নগরবাসীকে আনন্দের উপলক্ষ্য এনে দেয়। মঞ্চে বলীদের শক্তি আর কৌশলের লড়াই, চারপাশে হাজারো দর্শকের উল্লাস। জব্বারের বলী খেলার এই চিরচেনা চিত্র এবার দেখা যাবে না। একইভাবে সারা বছর অপেক্ষায় থাকা চট্টগ্রামের মানুষের প্রাণের বৈশাখী মেলাও এবার বসছে না। এতে চট্টগ্রামবাসী স্বভাবতই আশাহত। একই সঙ্গে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মেলায় অংশ নেওয়ার অপেক্ষায় থাকা মৌসুমী ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত। কারণ শুধুমাত্র জব্বার মিয়ার বলী খেলা উপলক্ষ্যেই সারা বছর নানা ধরনের তৈজসপত্র তৈরি করে থাকেন স্বল্প আয়ের মানুষগুলো।

এ ব্যাপারে আয়োজক কমিটির সভাপতি ও চসিক ওয়ার্ড কাউন্সিলর জহরলাল হাজারী ইত্তেফাককে বলেন, পরিস্থিতি এমন উদ্বেগজনক পর্যায়ে আছে। সরকারের পক্ষ থেকে জনসমাগম এড়ানোর কথা বলা হয়েছে। তাই বলী খেলার পাশাপাশি নববর্ষের আয়োজনও বন্ধ রাখা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে মৌসুমী ব্যবসায়ী রহমত আলী জানান, আমরা প্রতি বছর চট্টগ্রামের ঐ মেলায় পসরা নিয়ে আসি। সেখানে বিকিকিনিও বেশ ভালো। এবারও বেচাবিক্রি ভালো হবেই আশা ছিল। কিন্তু করোনার জন্য সব শেষ হয়ে গেল। মৃিশল্পী সুবোধ পাল গত পাঁচ বছর ধরে বৈশাখী মেলায় অংশ নিয়ে আসছে। তিনি বলেন, জব্বার সাহেবের বলী খেলার মেলার সঙ্গে আমার পরিবারের আত্মার সম্পর্ক রয়েছে। বাবা অমর কৃষ্ণ পাল এক যুগ এখানে ব্যবসা করেছেন। তিনি জানান, গত ছয় মাস ধরে তারা এ মেলায় আসার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।