নারায়ণগঞ্জ ৩নং মাছ ঘাট। জেলার মধ্যে অন্যতম বৃহত্তম একটি মাছের বাজার। বিভিন্ন থানা থেকে ক্রেতারা মাছ কিনতে আসেন এই বাজারে।
বাজারটি শহরের কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ড এর পাশে বিআইডব্লিউটিএ ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের অফিসের সামনের রাস্তা থেকে শুরু করে ৫নং ঘাট এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত। যা রাস্তা দখল করে পরিচালিত হয়ে আসছে। যদিও মূল বাজারটি হচ্ছে শুধুমাত্র ৩নং মাছ ঘাট এলাকাটি।
দেশের মধ্যে করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ। অথচ এই এলাকার মানুষের মধ্যে বিধিনিষেধ আরোপ করেও কোন সুফল পাচ্ছে না প্রশাসন। অনেকেই অসচেতনভাবে দিব্বি ঘুরে বেড়াচ্ছে রাস্তাঘাট ও হাট বাজারে।
এছাড়াও নারায়ণগঞ্জ জেলার মধ্যে অনেক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে স্থানীয় প্রশাসনের সঠিক নজরদারী নেই। যার মধ্যে রয়েছে ৩নং মাছ ঘাট বাজারটি।
বাজারটিকে সীমিতভাবে পরিচালিত করার জন্য জেলা প্রশাসক ও সদর মডেল থানা পুলিশকে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছেন সচেতন মহল।
করোনায় নারায়ণগঞ্জ একদিনে ৩ জনের প্রাণহানি:
রাজধানী ঢাকার পর জ্যামিতিক হারে করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত ও মৃত্যু হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ জেলায়। পুরো দেশে করোনা আক্রান্ত ১২৩ জন। এর মধ্যে মারা গেছে ১২ জন। সারাদেশে করোনায় মৃত ১২ জনের মধ্যে নারায়ণগঞ্জেই মারা গেছেন ৭ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৪১ জন করোনা রোগী শনাক্ত হলেও এর ১৫ জনই নারায়ণগঞ্জের। নারায়ণগঞ্জ গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা উপসর্গ নিয়ে ৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে করোনায় আক্রান্ত বলে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগ বন্ধ রয়েছে। মারা যাওয়া লোকের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এলাকারই ৪ জন।
করোনা উপসর্গ নিয়ে যারা মারা গেছেন শহরের মিশনপাড়া এলাকার সিদ্ধিকুর রহমান, চাষাঢ়া মাসুদা প্লাজার মালিক চৌধুরী মুহাম্মদ হাসান, দেওভোগের খায়রুল আলম হিরু, শীতলক্ষ্যার ফারুক, জামতলার গিয়াস উদ্দিন, কাশীপুরের আবু সাঈদ মাদবর ও বন্দরের রসুলবাগের পুতুল।
নারায়ণগঞ্জ জেলাকে করোনার ক্লাস্টার বলছে দেশের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইইডিসিআর।
গত ৩০ মার্চ প্রথম নারায়ণগঞ্জে করোনা আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হয়। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের রসূলবাগ এলাকায় বসবাসরত পুতুল (৫০) নামে এক নারী করোনা আক্রান্ত হয়ে ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
ইত্তেফাক/জেডএইচ