নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটা শুরু

শ্রমিক সংকটে সমস্যায় পড়েছেন কৃষক

শ্যামলেন্দু পাল, নেত্রকোনা প্রতিনিধি

নেত্রকোনার হাওর উপজেলাগুলোতে বোরো ধান কাটা শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে জেলার সর্বত্র ধান কাটা শ্রমিকের অভাবে কৃষকরা সমস্যায় পড়েছেন। করোনার কারণে নেত্রকোনার বাইরের জেলাগুলো থেকে ধান কাটার শ্রমিকরা আসতে পারছেন না। ইতিমধ্যে হাওর উপজেলাগুলোতে স্থানীয় শ্রমিকদের দিয়ে অল্প অল্প ধান কাটা শুরু হয়ে গেছে। তবে শ্রমিকের সমস্যা কিছুটা কাটিয়ে ওঠার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় নেত্রকোনার জন্য ধান কাটা, মাড়াই ও প্যাকিংয়ের জন্য ৪২টি কম্বাইন্ড হারভেস্টর মেশিন এবং আটটি রিপার বরাদ্দ দিয়েছে। দুই/একদিনের মধ্যে এই সমস্ত মেশিন কৃষকদের দেওয়া হবে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, এসব যন্ত্র কিনতে সরকার কৃষকদের ৫০ ভাগ সাবসিডি দিচ্ছে। উপজেলা পরিষদ এসব মেশিন কৃষকদের কাছে সরবরাহ করবে। তবে ৪২টির মধ্যে হাওর এলাকার জন্য ২৮টি বরাদ্দ করা হয়েছে। বাকিগুলো অন্য উপজেলায়।

কারণ হাওরে বোরোর আবাদ বেশি। খালিয়াজুরী উপজেলার কুড়িহাটি গ্রামের কৃষক মনির হোসেন এবং কাদিরপুর গ্রামের কৃষক সুকমল সরকার বলেন, চৈত্র মাস প্রায় শেষ, যে কোনো সময় বৃষ্টি বা ঝড় শুরু হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। যেহেতু এখন করোনা ভাইরাসের কারণে ধান কাটা শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না, তাই ধান কাটার মেশিন আরো বরাদ্দের প্রয়োজন।  তাহলে বৃষ্টি বা আগাম বন্যার আগেই তারা ধান ঘরে তুলতে পারবেন।  কৃষি বিভাগের উপপরিচালক হাবিবুর রহমান  বলেন, ধান কাটার মেশিনের চাহিদা থাকায় তিনি সরকারের কাছে আরো ৫০টি মেশিন বরাদ্দের জন্য লিখেছেন। তবে নেত্রকোনা ও বারহাট্টা উপজেলার অন্য পেশার বেকার শ্রমিকদের এই আপদকালীন সময়ে ধান কাটার জন্য হাওরে পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। এই ব্যাপারে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে শ্রমিকদের তালিকাও প্রণয়ন করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।  জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলাম বলেন, করোনা ভাইরাসে যাতে কোনো শ্রমিক আক্রান্ত না হয় সেভাবেই ধান কাটার সময় শ্রমিকদের সাবধান করা হয়েছে।