ইংরেজি শব্দ কোয়ারেন্টাইনের বাংলা অর্থ হলো সঙ্গরোধ, নিরোধন, একঘরে, ঘরে ঠাঁই, গৃহবন্দি, রোগসংক্রমণ আশঙ্কায় ব্যক্তিকে পৃথক রাখা, সংক্রামক রোগের বিস্তার রোধ করার জন্য ব্যক্তিকে বিচ্ছিন্ন রাখা, রোগ সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষার জন্য স্বাভাবিক সম্পর্ক ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা। করোনা ভাইরাস একটি সংক্রামক রোগ বা ছোঁয়াচে রোগ। তাই কোয়ারেন্টাইনে থাকা অত্যাবশ্যক নিজেকে এবং অপরকে বাঁচানোর জন্য। কিন্তু আমরা এই শব্দের সঙ্গে তেমন পরিচিত নই কিংবা প্রকৃত অর্থ জানি না বলেই কোয়ারেন্টাইনে থাকতে চাই না। আমরা মনে করি কোয়ারেন্টাইনে থাকা মানেই গৃহবন্দি, নজরদারি, পুলিশ হেফাজতে থাকা। কোয়ারেন্টাইন মানেই আমাদের কাছে একটা আতঙ্কের নাম, নির্বাসনের নাম। তাই তো মানুষ কোয়ারেন্টাইনে থাকতে চায় না, থাকলেও হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায়, কোয়ারেন্টাইনে রাখতে চাইলে প্রতিবাদ করে। কিন্তু অন্যান্য দেশে মানুষ স্বেচ্ছায় কোয়ারেন্টাইনে থাকে। কারণ তারা জানে একজনের কারণে দশজন মারা যেতে পারে, স্বামীর কারণে তার পরিবারের বাবা-মা, স্ত্রী, ছেলেমেয়ে মারা যেতে পারে। তাই অন্যদের কথা ভেবে স্বেচ্ছায় কোয়ারেন্টাইনে থাকে। আর আমাদের মনমানসিকতা হলো—আমি একা মরব কেন, সবাইকেই নিয়ে মরব!
কোয়ারেন্টাইনে রাখার অবশ্যই মহত্ উদ্দেশ্য আছে। আর তা হলো—আমার কারণে যেন অন্যেরা ব্যধিগ্রস্ত না হয়। আমি মরে গেলেও যেন অন্যেরা বেঁচে যায়। এই রোগ যেন ছড়িয়ে না পড়ে, মহামারির রূপ ধারণ না করে। কিন্তু আমাদের উদাসীনতা ও অসচেতনতাই করোনা ভাইরাস বিস্তারে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। শুধু রাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললে বা দোষারোপ করলেই হবে না, নিজেদের ভূমিকা, সচেতনতা, দায়িত্ব কতটুকু পালন করেছি তা দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে ভাবতে হবে।
হোম কোয়ারেন্টাইনের কথা বলা হচ্ছে; কিন্তু দেশের বাস্তবতায় তা পালন করা বড়ো কঠিন। কারণ আমাদের ঘর ও বাসাগুলোতে আলাদা থাকার মতো, আলাদা টয়লেট ব্যবহারের মতো সুযোগ-সুবিধা নেই বললেই চলে। বিদেশফেরত বাঙালিরা কোয়ারেন্টাইনে না থেকে পরিবারে, হাটেবাজারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আর এভাবে অন্যে সংক্রমিত হচ্ছে, মৃত্যুর দিকে যাচ্ছে। তাই আজকে আমরাও সঙ্গরোধ করব, আগামীতে সঙ্গ পাওয়ার জন্য।
গৌরবজি. পাথাং
পরিচালক, মরো সেমিনারী,
২৮ জিন্দাবাহার ১ম লেন, ঢাকা ১১০০