মানবতার ডাকঘর

ইত্তেফাক রিপোর্ট

সারাবিশ্ব যখন করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ভয়ে—তখন নিজ পরিবারের কথা চিন্তা না করে দারুস সালাম থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী ফরিদুল হক হ্যাপির নেতৃত্বে ‘মানবতার ডাকঘর’ এর মাধ্যমে খাবার, ওষুধ ও ডাক্তার নিয়ে জনসাধারণের সেবা প্রদান করা হচ্ছে।

১১ দিন ধরে লকডাউন রাজধানীর মিরপুরের টোলারবাগ। ঐ এলাকায় এক জন করোনা ভাইরাসে মারা যাওয়ার পরই এলাকাটি লকডাউন করা হয়। এলাকায় বসবাসকারী প্রায় ৩০ হাজার মানুষের ঘর থেকে বের হওয়া নিষেধ। উচ্চবিত্ত থেকে হতদরিদ্র পর্যন্ত মানুষের বসবাস রয়েছে এলাকায়। লকডাউন ঘোষণা করার সঙ্গে সঙ্গেই উচ্চবিত্তরা তাদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনে নিয়েছে। বিপদে পড়েছে যারা দিনের আয় দিয়ে দিন চলে। এ সময়ে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছেন দারুস সালাম থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজি ফরিদুল হক হ্যাপি। তিনি এলাকার নিম্ন আয়ের মানুষ থেকে উচ্চবিত্ত পর্যন্ত সবার বাড়ির সামনে একটি করে ডাকবাক্স ঝুলিয়ে দিয়েছেন। ডাক্তারের পরামর্শ, খাদ্য সহায়তা থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য পর্যন্ত কারো কিছুর দরকার হলে তা লিখে ঐ বাক্সে রেখে দেয় এলাকার লোকেরা। প্রতিদিন সকালে ফরিদুল হক হ্যাপি তার স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে প্রতিটি বাড়ির সামনে রাখা ডাকবাক্স থেকে চিঠিগুলো সংগ্রহ করেন এবং চাহিদামতো ডাক্তার ও দ্রব্যাদি ঐ বাড়িতে পৌঁছে দেন। এলাকার একাধিক বাসিন্দা বলেন, ‘আমরা ঘর থেকে বেরুতে পারছি না, আমাদের কোনো কিছুর প্রয়োজন হলে লিখে বাক্সে রেখে দিই, সে অনুসারে হ্যাপি বা তার লোকেরা পৌঁছে দেন। আমরা এটার নাম দিয়েছি ‘মানবতার ডাকঘর’।

এ বিষয়ে কাজী ফরিদুল হক হ্যাপি বলেন, ‘এলাকাটি একেবারেই লকডাউন, কারো বের হওয়ার সুযোগ নেই। নিম্নআয়ের মানুষের যেমন খাদ্যসহায়তার প্রয়োজন, তেমনি উচ্চবিত্তের লোকদের নানা অতীব প্রয়োজনীয় কিছুর দরকার হতে পারে বলে আমি এ ডাকঘর চালু করেছি। ১১ দিনে আমি প্রায় ২ হাজার চিঠি পেয়েছি। তার মধ্যে খাদ্যসহায়তার অনুরোধ যেমন ছিল, তেমনি অতীব প্রয়োজনীয় কিছু ওষুধের চাহিদাও ছিল। আবার ডাক্তারের পরামর্শও চাওয়া হয়েছিল। আমরা তা পৌঁছে দিয়েছি। এ বিষয়ে আমাদের সহায়তা করছেন এলাকার এমপি আসলামুল হক।’