স্টাফ রিপোর্টার , নারায়ণগঞ্জ
প্রধানমন্ত্রীর ধমকের পর অবশেষে টনক নড়েছে ডাক্তারদের। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা বারবার অনুরোধ করেও ডাক্তারদের চিকিত্সাসেবা দিতে নামাতে পারেনি। ডাক্তাররা পিপিইর অজুহাত দেখিয়ে রোগী সেবাদান বন্ধ রেখেছেন। অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশনার পর করোনা ভাইরাসের মহামারি সংকটে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জে ডাক্তারদের উদ্যোগে বিশেষ টেলি-মেডিসিন সেবা চালু করা হয়েছে। দিনে দুই শিফটে ৫ ঘণ্টা করে এই সেবায় যুক্ত থাকবেন প্রায় ২২ জন চিকিত্সক। যারা মেডিসিন, শিশু, সার্জারি, গাইনি ও নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ। একেক চিকিত্সক সপ্তাহে তিন দিন এ সেবায় যুক্ত থাকবেন। স্বাধীনতা চিকিত্সক পরিষদ (স্বাচিপ) নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ে গতকাল থেকে এ সেবা শুরু হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ সেবা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক চিকিত্সক মো. সামসুদ্দোহা সরকার সঞ্চয়।
মো. সামসুদ্দোহা সরকার সঞ্চয় বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন স্থান লকডাউন করা হয়েছে। তবে হাসপাতালগুলো খোলা রয়েছে এবং আমরা আসছি। কিন্তু রাস্তাঘাট, যান চলাচল বন্ধ থাকার কারণে সমস্যা থাকা সত্ত্বেও রোগীরা আমাদের কাছে আসতে পারছে না। তাই স্বাধীনতা চিকিত্সক পরিষদ (স্বাচিপ) ও বিএমএ এর সমন্বয়ে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতাল ও নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালের চিকিত্সকরা এ সেবা শুরু করেছে। এ সেবার মাধ্যমে প্রতিদিন দুই শিফটে চিকিত্সকরা ফোনে রোগীদের চিকিত্সাসেবা দিবে। আর যদি ফোনে সেবা দেওয়া সম্ভব না হয় তাহলে প্রয়োজনে হাসপাতালে আসার পরামর্শ দেওয়া হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের টেলি-মেডিসিন সেবার একমাত্র উদ্দেশ হলো রোগীর সেবা নিশ্চিত করা। দুর্যোগকালীন সময়ে যে সকল রোগের সেবা ঘরে থেকেও দেওয়া সম্ভব আমরা সেটাই দিতে চাচ্ছি। তাই আমরা সার্বক্ষণিক সেবা দিয়ে যাব।’