চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্মরত প্রায় ৯০০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সবাই সুস্থ আছেন। করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে দেশব্যাপী সরকার ঘোষিত লকডাউন প্রক্রিয়ায় এই বিমানবন্দর দিয়ে সব ধরনের যাত্রীবাহী বিমান গত ২১ মার্চ থেকে সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ইতিপূর্বে এই বিমানবন্দর দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে কয়েক হাজার প্রবাসী বাঙালি দেশে প্রত্যাবর্তন করেন। ফলে এই বিমানবন্দরে কর্মরত সবাইকে ২১ মার্চ থেকে কোয়ারেন্টাইনে যেতে হয়। গত ৪ এপ্রিল তাদের কোয়ারেন্টাইন শেষ হলে দেখা যায় তাদের সবাই সুস্থ রয়েছেন।
চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক উইং কমান্ডার সরোয়ার-ই জামান ইত্তেফাককে বলেন, এই বিমানবন্দরে ২১ মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ যাত্রীবাহী সব ফ্লাইট বন্ধ রয়েছে। তবে এখানে কার্গোবাহী বিমান চলাচলে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তা সত্ত্বেও গত ২১ মার্চ থেকে এই বিমানবন্দর দিয়ে কোনো ধরনের কার্গোবাহী বিমান চলাচল করেনি।
শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এম জেড এ শরিফ ইত্তেফাককে বলেন, এই বিমানবন্দর দিয়ে মার্চ মাসের প্রথম দুই সপ্তাহে বিভিন্ন স্থান থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে প্রায় ১৫ হাজার প্রবাসী বাঙালি দেশে ফিরেছেন। যারা ফিরেছে তাদের নামধাম, মোবাইল নম্বর সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও প্রশাসন রেকর্ড করে রেখেছে এবং তাদের কোয়ারেন্টাইন মনিটরিং করা হচ্ছে। এ সময় ইতালি থেকে ৬০/৭০ জন প্রবাসীও এই বিমানবন্দর দিয়ে দেশে ফেরেন। যারা এসেছিলেন তাদের সবারই তাত্ক্ষণিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছিল। সবাইকে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি চট্টগ্রাম মহানগরীর দামপাড়ার একই পরিবারের এক বৃদ্ধসহ দু্ই জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়। ঐ বৃদ্ধ মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহের দিকে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে দেশে প্রত্যাবর্তনকারী তিন আত্মীয়কে রিসিভ করেন। এই বৃদ্ধেরই এক সন্তানের শরীরে দুই দিন পর করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়। বৃদ্ধের সন্তান অবশ্য নগরীর একটি সুপারশপে সেলসম্যান হিসাবে কর্মরত ছিলেন।