সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ও তালা সংবাদদাতা
আশাশুনিতে প্রবল জোয়ারের চাপে কপোতাক্ষ নদের বেঁড়িবাধ ভেঙে তিনটি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। মঙ্গলবার মধ্যরাতে উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের কুড়িকাউনিয়া গ্রামের ৭/১ পোল্ডার সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ১০০ ফুট বেঁড়িবাধ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে কুড়িকাউনিয়া, শ্রীপুর ও বৃষ্টিনন্দন গ্রামের প্রায় এক হাজার বিঘা মত্স্য ঘের ও ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় অর্ধ শতাধিক পরিবার। অন্যদিকে তালায় টিআরএমের বাঁধ ভেঙে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে জোয়ারের পানির চাপে টিআরএমের সংযোগ খালের বাঁধ ভেঙে এ ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসী বাঁধটি স্বেচ্ছাশ্রমে মেরামত করেছে বলে জানা গেছে। প্রতাপনগর ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন জানান, বারবার বলা সত্ত্বেও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ সংস্কারে তেমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তিনি আরো জানান, তিনটি গ্রামের প্রায় ১ হাজার বিঘা মত্স্য ঘের ও ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় অর্ধ শতাধিক পরিবার।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে জানান, তাত্ক্ষণিক কিছু বালুর বস্তার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দ্রুত বেড়িবাঁধ সংস্কারের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। বালিয়া গ্রামের জব্বার মোড়ল, ইসমাইল মোড়ল, রবিউল সানা, মোমিন সানার বাড়িসহ বেশ কয়েটি পরিবার সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাদের মাছের ঘের, পুকুর ও ফসলি জমিতে পানি উঠে যায়। স্থানীয় খেশরা ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাষক রাজিব হোসেন রাজু বলেন, অব্যবস্থাপনায় টিআরএম চালু হওয়ার কারণে বাঁধ ভেঙে বালিয়া গ্রামের কয়েকটি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে রাতেই এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধটি মেরামতের কাজ সম্পন্ন করেছে বলে জানান তিনি। তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ইকবাল হোসেন বলেন, বিষয়টি শুনেছি। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধের মেরামত কাজ সম্পন্ন করে।