ইত্তেফাক ডেস্ক
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ সন্দেহে বিভিন্ন স্থানে ১৮ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর :
দিনাজপুর : করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ সন্দেহে দিনাজপুরে এ পর্যন্ত ১৭ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য রংপুরে পাঠানো হয়েছে। আর এখন পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে ১৯ জন। জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ আব্দুল কুদ্দুছ জানান, দিনাজপুর জেলায় মোট ১৭ জনের নমুনা সংগ্রহ করে রংপুরে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। এর মধ্যে মঙ্গলবার পাঠানো হয়েছে তিন জনের নমুনা। এ পর্যন্ত ছয় জনের রিপোর্ট পাওয়া গেছে। তাদের কারো করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) : বাকেরগঞ্জের পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের ছোটো রঘুনাথপুর গ্রামের এক গৃহবধূকে মঙ্গলবার করোনা সন্দহে নমুনা সংগ্রহ করে শের-ই বাংলা চিকিত্সা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রেজওয়ানুর আলম জানান, করোনার সকল উপসর্গের উপস্থিতি তার মধ্যে পাওয়া গেলে নমুনা সংগ্রহ করে রোগীকে দ্রুত বরিশাল শেবাচিমে প্রেরণ করি। বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাধবী রায় জানান, রোগী সংশ্লিষ্ট চারটি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে।
নাটোর : নাটোর সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিট থেকে বুধবার একজন এবং শহরের কান্দিভিটা এলাকার বাড়ি থেকে একজনসহ মোট দুইজনের করোনা পরীক্ষার নমুনা রাজশাহীতে পাঠানো হয়েছে। নাটোর সদর হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আনছারুল হক বিষয়টি নিশ্চত করেছেন। নাটোরের জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ বলেন, শহরের কান্দিভিটা মহল্লার বাড়িটি আপাতত প্রশাসনের নজরদারিতে থাকবে। রোগীর নমুনা পরীক্ষার ফলাফল জানা গেলে পরবর্তী সময়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বামনা (বরগুনা) সংবাদদাতা : বরগুনার বামনা উপজেলায় হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা প্রবাসী ৪৮ জনই ছাড়পত্র নিয়েছে। তারা সবাই সুস্থ আছেন বলে বামনা হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়। এদিকে বুধবার ঢাকাফেরত দুই জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। নমুনা সংগ্রহকারীদেরসহ বাসার লোকজনদের হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, ঢাকা ফেরত দুইজনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।
গলাচিপা (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা : করোনা আক্রান্ত সন্দেহে গলাচিপা পৌর এলাকায় দুইটি বাড়ি লকডাউন করেছে উপজেলা প্রশাসন। বুধবার পৌর এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ডের গোডাউন রোডের একটি বাড়ি ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মুজিব সড়কের একটি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। ২ নম্বর ওয়ার্ডের গোডাউন রোডের এক ট্রাক ড্রাইভারের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়া ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মুজিব সড়কের বাসার বাসিন্দা তাবলিগফেরত তরুণের নমুনা সংগ্রহ করা হবে বৃহস্পতিবার। গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, দুই ব্যক্তি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে বুধবার বেলা ১২টার দিকে শহরের দুইটি বাড়ি লকডাউন করে দেওয়া হয়েছে।
নাগরপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা : নাগরপুরে করোনা ভাইরাস শনাক্তের জন্য এ পর্যন্ত ডাক্তার, নার্স ও শিশুসহ নয় জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সর্বশেষ বুধবার নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) শাহেদ আলী এবং মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই) কামরুন্নাহার দুই জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য সিভিল সার্জন অফিসে পাঠান। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. রোকনুজ্জামান খান জানান, উপসর্গ দেখে প্রাথমিকভাবে সন্দেহজনক মনে হওয়ায় নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠাচ্ছি।
কালিয়াকৈর (গাজীপুর) : কালিয়াকৈরের আটাবহ ইউনিয়নের জালশুকা গ্রামে করোনা সন্দেহে বধুবার একই পরিবারের পাঁচ জনসহ স্থানীয় মসজিদের ইমামের নমুনা সংগ্রহ করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিত্সকেরা। উপজেলা করোনা ভাইরাস কমিটির সভাপতি ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. নাজমুন্নাহার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ পর্যন্ত ২৮ জনের নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে দুই জনের নেগেটিভ রিপোর্ট পাওয়া গেলেও বাকী নমুনাগুলোর এখন পর্যন্ত কোনো ফলাফল পাওয়া যায়নি। রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত লক্ষণ পাওয়া রোগীদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।