জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যা মামলার রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল মাজেদের ফাঁসির রায় অবিলম্বে কার্যকর করার দাবি জানিয়েছে আওয়ামী লীগ। বুধবার দলটির সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক বিবৃতিতে বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফাঁসির রায় সম্পূর্ণ বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। দেশের সংবিধান ও প্রচলিত ফৌজদারী কার্যবিধি অনুযায়ী ফাঁসির রায় কার্যকরের ক্ষেত্রে আইনগত কোনো বাধা নেই এবং নির্দিষ্ট মেয়াদে ফাঁসির রায় কার্যকর করার কথা আইনে উল্লেখ আছে। তিনি আরো বলেন, ফাঁসির রায় কার্যকরের জন্য আইনসঙ্গতভাবে যা করার সেটা শুরু হয়ে গেছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আমরা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অবিলম্বে ফাঁসির রায় কার্যকর করার দাবি জানাচ্ছি।
ওবায়দুল কাদের বলেন, মাজেদ ছাড়া আরো পাঁচ দণ্ডপ্রাপ্ত খুনি রাশেদ চৌধুরী, নূর চৌধুরী, শরিফুল হক ডালিম, কর্নেল রশিদ ও মুসলেহউদ্দিন রিসালাদার পলাতক অবস্থায় আছে। তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য দীর্ঘদিন ধরে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং সেটা আরো জোরদার করার দাবি জানাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে এই জাতির অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করা হয়। পৈশাচিক ও নারকীয় এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে শুধু ব্যক্তি বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়নি, একটি দল ও তার আদর্শকে নিশ্চিহ্ন করার অপচেষ্টাই শুধু করা হয়নি সেই সঙ্গে একটি সদ্য স্বাধীন জাতি রাষ্ট্রের ভবিষ্যত্ সম্ভাবনাকে গলা টিপে হত্যা করার অপচেষ্টা করা হয়েছিল।
বর্তমান করোনা ভাইরাস সংকটের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বিবৃতিতে সেতুমন্ত্রী বলেন, আমরা একটি বৈশ্বিক ও জাতীয় সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। এখন আমাদের প্রধানতম কাজ হচ্ছে করোনা ভাইরাসে সৃষ্ট সংকট ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করা। এ সময় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে করোনা সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি নেতাকর্মীসহ সারাদেশের জনগণকে ‘মতলবিমহলের ষড়যন্ত্রমূলক তত্পরতা’ সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, বঙ্গবন্ধু হত্যার ৪৫ বছর ও রায়ের ২২ বছর পর মঙ্গলবার মাজেদকে ঢাকার মিরপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে ফৌজদারী কার্যবিধির ৫২ ধারায় ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করা হলে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। বুধবার কারাগার থেকে আদালতে হাজির করার পর মাজেদের রায় কার্যকর করার জন্য মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেন আদালত।