করোনার লক্ষণ পাওয়া ওমরাহ ফেরত বৃদ্ধা ও র্যাব সদস্য সুস্থ রয়েছেন। এরা ছাড়া কক্সবাজারে নতুন কোনো ব্যক্তি করোনা আক্রান্ত হননি। এরপরও পর্যটন নগরী কক্সবাজারকে করোনার সংক্রমণ থেকে রক্ষায় পুরো জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। গতকাল বুধবার বিকেলে জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন তার অফিসিয়াল ফেসবুক প্রোফাইল ‘ডিসি কক্সবাজার’ আইডি থেকে এ ঘোষণা দেন। স্ট্যাটাসে জেলা প্রশাসক আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন।
স্ট্যাটাসে জেলা প্রশাসক লিখেছেন, ‘জনস্বার্থে কক্সবাজারকে লকডাউন করা হলো। এখন থেকে এ জেলায় সব আগমন ও বহির্গমন নিষিদ্ধ। আদেশ অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা।’
জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমরা কক্সবাজারবাসীকে করোনা ভাইরাসের কবল থেকে মুক্ত রাখতে চাই। তাই জেলার বাইরে থেকে কোনো মানুষ যেন জেলার ভেতরে আসতে না পারে আর কক্সবাজার থেকে কোনো ব্যক্তি যেন বাইরে যেতে না পারে, সে জন্য জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে।
সব রোহিঙ্গা ক্যাম্প লকডাউন
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে কক্সবাজারের ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্প লকডাউন করা হয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো ঘনবসতি এলাকা হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মাহাবুবুল আলম তালুকদার। তিনি জানান, ‘বলতে গেলে আগে থেকেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো অঘোষিত লকডাউন ছিল, শুধু ঘোষণা হয়নি। তাছাড়া ১১ মার্চ থেকে সেখানে এনজিও সংস্থাদের কাজ বন্ধ করা হয়েছিল। শুধু অতি জরুরি কার্যক্রম চালু ছিল।’
যশোর লকডাউন
যশোর অফিস জানায়, যশোর জেলায়ও প্রবেশের ব্যাপারে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। দেশের অন্য জেলাগুলো থেকে যশোরে প্রবেশের বিধিনিষেধ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। ফলে বাইরে থেকে লোকজনকে যশোরে ঢুকতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে যশোর জেলা থেকে আরেক জেলায় যাওয়া-আসাও করা যাবে না। তবে জরুরি কাজে যশোরে প্রবেশ করলে জেলা প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কন্ট্রোল রুমে ফোন করে জানাতে হবে। জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিউল আরিফ গতকাল তার ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে যশোরবাসীর প্রতি এ ঘোষণা দেন।