তাবলিগ থেকে ফেরার পর মৃত্যু, ৫ ঘণ্টা পড়ে ছিল লাশ

কুষ্টিয়া এলাকা থেকে ৫ দিন পূর্বে রাজশাহীর বাঘায় নিজ এলাকায় ফিরেছিলেন তাবলিগ জামাতের কর্মী আবুল হোসেন (৭০)। হঠাত্ গতকাল বুধবার সকাল ৬টার দিকে তিনি মারা যান। পরিবারের দাবি, তিনি ডায়াবেটিস এবং উচ্চরক্তচাপে আক্রান্ত থাকায় বার্ধক্যজনিত কারণে মারা গেছেন। তবে এ কথা মানতে নারাজ এলাকাবাসী। সবার মুখে একই কথা, তিনি ইন্ডিয়া গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফেরার পর করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এই গুজবে একমাত্র পরিবারের লোকজন ছাড়া প্রায় ৫ ঘণ্টা লাশের কাছে যাননি কোনো মানুষ। পরে মৃত ব্যক্তির পাসপোর্ট তল্লাশি করে দেখা যায় তিনি ২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ইন্ডিয়া থেকে তাবলিগ জামাত করে ফিরেছেন।

জানা যায়, উপজেলার উত্তর মিলিকবাঘা গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে আবুল হোসেন দীর্ঘদিন থেকে তাবলিগ জামাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তার ছেলে উপজেলা পরিষদ মসজিদের ইমাম। বাঘায় তাদের একটি মাদ্রাসা রয়েছে। কুষ্টিয়া থেকে ফিরে তিনি ঐ মাদ্রাসায় উঠেছিলেন। অবশ্য মাদ্রাসাটি এর আগেই ছুটি দেওয়া হয়েছিল।

আবুল হোসেনের ছেলে শফিকুল ইসলাম ও সুলতান জানান, বাবার মধ্যে কোনো করোনা উপসর্গ লক্ষ্য করিনি। দেশের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে তাকে আলাদাভাবে মাদ্রাসায় রাখা হয়েছিল। মূলত তিনি বার্ধক্যজনিত কারণে মারা গেছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা জানান, আবুল হোসেনের করোনা আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি গুজব। ঘটনাটি শোনার পর তার ছেলের মাধ্যমে আবুল হোসেনের পাসপোর্ট দেখি। সেখানে  দেখা যায়  তিনি গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ভারত যান এবং সেই মাসেই ফিরে আসেন।