চিকিত্সা না পেয়ে হাসপাতালের বারান্দায় শিশুর মৃত্যু!

পাবনার বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বারান্দায় গতকাল বুধবার সকালে বিনা চিকিত্সায় একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিশুটির নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার লক্ষণ ছিল। পরিবারের লোকজনের অভিযোগ শিশুটিকে ভর্তির জন্য বারবার আকুতি জানানো সত্ত্বেও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিত্সকেরা তাকে ভর্তির ব্যবস্থা নেননি ও প্রয়োজনীয় চিকিত্সা দেননি।

শিশুটির পরিবারের লোকজন জানান, বেড়া পৌর এলাকার সানিলা শাহপাড়া মহল্লার দিনমজুর খোরশেদ আলমের ছয় মাসের শিশুকন্যা খুশি আক্তার মঙ্গলবার ডায়রিয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়ে। ঐ দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে শিশুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। কিন্তু শিশুটিকে সেখানে ভর্তির জন্য পরিবারের লোকজন আকুতি জানালেও তাকে ভর্তি করা হয়নি। এর পরিবর্তে শিশুটিকে ভালোভাবে না দেখেই সংশ্লিষ্ট চিকিত্সক একটি ব্যবস্থাপত্র লিখে দিয়ে তাকে বাড়ি নিয়ে যেতে বলেন। পরিবারের লোকজন শিশুটিকে বাড়ি নিয়ে আসার পর তার অবস্থার আরো অবনতি হয়। পরে গতকাল সকাল ১০টার দিকে পরিবারের লোকজন আবারও তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। এ সময়েও পরিবারের লোকজন শিশুটিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে অক্সিজেন দেওয়ার আকুতি জানাতে থাকেন। কিন্তু কর্তব্যরত চিকিত্সক তা না করে শিশুটিকে বাড়িতে নিয়ে যেতে বলেন। এক পর্যায়ে বেলা ১১টার দিকে শিশুটি বারান্দাতেই মারা যায়।      

শিশুটির বাবা খোরশেদ আলম বলেন, ‘আমি আমার বাচ্চাটাকে দুই বার হাসপাতালে নিয়্যা আইস্যাও কুনু চিকিত্সা পাইল্যাম না। তারা (চিকিত্সকেরা) করোনার ভয়ে আমার বাচ্চার কাছে আসে নাই, কুনু চিকিত্সা দেয় নাই।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালনকারী চিকিত্সক শারমিন সুলতানা বলেন, ‘তারা যখন আমাদের কাছে বাচ্চাটিকে নিয়ে আসে তখন তার হূত্স্পন্দন ছিল না। এর পরও আমরা তাদেরকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য বাচ্চাটিকে অক্সিজেন দিয়েছি। অথচ তারা বাচ্চাটিকে চিকিত্সা দেওয়া হয়নি বলে মিথ্যা অভিযোগ করছেন।’