করোনা লড়াইয়ে শামিল হলেন আকবররা

এই তো দুই মাস আগে বাংলাদেশকে বিশ্বসেরার সম্মান, গৌরব এনে দিয়েছিল আকবর আলীর দল। ইতিহাস গড়েছিল দলটি। বাংলাদেশের বিশ্বজয়ের অতৃপ্তি ঘুচিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। দক্ষিণ আফ্রিকার পচেফস্ট্রুমে পেন্ডুলামের মতো দুলতে ম্যাচে স্নায়ুক্ষয়ী লড়াইয়ে ভারতকে হারিয়ে প্রথমবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায় আকবর বাহিনী তথা বাংলাদেশ। টাইগার জুনিয়রদের হাত ধরে আইসিসির বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে ট্রফি জয়ের স্বাদ পায় বাংলাদেশ।

বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর বড়ো মঞ্চে আসতেই করোনা ভাইরাসের ধাক্কায় ঘরবন্দি হয়ে পড়েন ইমন-শরীফুলরা। করোনার কারণে বন্ধ হয়ে যায় ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ। ঘরোয়া ক্রিকেটের আকর্ষণীয় এই প্রতিযোগিতায় নিজেদের প্রতিভার স্বরূপ তুলে ধরার সুযোগই পেল না এই যুবদলের ক্রিকেটাররা। অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে থাকা প্রিমিয়ার লিগের অপেক্ষাতেই দিন কাটছে এখন তাদের।

ঘরে বসে থাকলেও করোনা লড়াইয়ে ঠিকই শামিল হয়েছে আকবররা। করোনায় বিপর্যস্ত অসহায় মানুষের সহায়তায় বিশ্বকাপজয়ী বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দল আড়াই লাখ টাকার তহবিল গঠন করেছে। যা তারা হস্তান্তর করেছে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের সংগঠন ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) কাছে। কোয়াব আকবরদের দেওয়া এই অর্থ বিপর্যস্ত মানুষের সাহায্যে বিতরণ করবে।

দেশের চুক্তিবদ্ধ প্রথম শ্রেণির সকল ক্রিকেটারদের পর বিশ্বকাপজয়ী দলটার ক্রিকেটার ও কর্মকর্তাবৃন্দ সম্মিলিতভাবে এই তহবিল গঠন করেছে।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে কোয়াব। সংস্থাটির সাধারণ সম্পাদক দেবব্রত পাল স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দেশের এই দুঃসময়ে এগিয়ে এসে দায়িত্ববোধের পরিচয় দেওয়া যুব দলের ক্রিকেটারদের প্রশংসা করা হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় সবাইকে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানিয়েছে কোয়াব।

এর আগে করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যে নিজেদের বেতনের অর্ধেক দান করেছিলেন জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। তাতে ২৬ লাখ টাকার তহবিল জড়ো করেন তামিম-মুশফিকরা। বেতনের অর্ধেক দিয়েছেন দেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটাররাও। ৯১ ক্রিকেটার মিলে প্রায় ১০ লাখ টাকা দিয়েছেন কোয়াবের করোনা তহবিলে। এবার তাদের সঙ্গে নাম লেখাল যুব বিশ্বকাপ জয়ী দলের ক্রিকেটার, কর্মকর্তারা।

তাদের যোগানকৃত অর্থ কোয়াবের তহবিলে দেওয়া হলেও সার্বিকভাবে এই তহবিল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিল বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটি। তাদের মাধ্যমে সংগঠিত হয়েই এই অর্থ দান করেছেন ক্রিকেটার-কর্মকর্তারা।