আগাম বন্যার আগেই ধান কাটার তাগিদ

নেত্রকোনা জেলার হাওর উপজেলাগুলোতে বোরো ধান কাটা শুরু হলেও এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত শ্রমিক না পাওয়ায় কৃষকরা নিজেরাই ধান কাটায় নেমে পড়েছেন। ইতিমধ্যে ধান কেটে ধান মাড়াই মেশিন দিয়ে ধান মাড়াই এবং মাঠেই শুকানো হচ্ছে। করোনা ভাইরাসের কারণে জেলার বাইরে  থেকে শ্রমিকরা নেত্রকোনায় আসতে পারছেন না। কিন্তু এই শ্রমিকরা ধান কাটার জন্য আগাম টাকা নিয়েছিলেন বলে কৃষকরা জানায়। তাই তারা এখন সমস্যায় পড়েছেন। এদিকে নেত্রকোনা জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আক্তারুজ্জামান এ সপ্তাহে  বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় জরুরিভিত্তিতে ধান কাটার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কৃষি বিভাগের উপপরিচালক এবং জেলা প্রশাসক বরাবর চিঠি দিয়েছেন বলে এ প্রতিনিধিকে জানান। নেত্রকোনা জেলার মধ্যে খালিয়াজুরী উপজেলাতে বোরো ধান সবার আগে কাটা শুরু হয়েছে। তবে মদন এবং মোহনগঞ্জ উপজেলাতেও কম-বেশি ধান কাটা শুরু হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, নেত্রকোনা জেলার বাইরে থেকে শ্রমিক আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন থেকেও এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। খালিয়াজুরীর কৃষক আবুল কালাম বলেন, জেলার বাইরের কৃষকদের গত বছরই আগাম টাকা দেওয়া হয়েছিল, ধান কাটার জন্য। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে এবং লকডাউন থাকায় আগাম টাকা নেওয়া ধান কাটা শ্রমিকরা এলাকায় আসতে পারছে না। ফলে ধান কাটা নিয়ে তারা বড়ো ধরনের সমস্যায় পড়েছেন। নেত্রকোনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হাবিবুর রহমান বলেন, হাওর উপজেলাগুলোতে ধান কাটতে আসা শ্রমিকদের স্থানীয় স্কুল এবং বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। তাদের সকলের জন্য হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, যেসব এলাকায় ধান কাটার দেরি আছে সে সব স্থান থেকে কৃষি শ্রমিকদের তালিকা প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান অথবা উপজেলা কৃষি অফিসারের প্রত্যয়নসহকারে হাওর অঞ্চলে বোরো ধান কাটার ব্যবস্থা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মইনউল ইসলাম বলেন, আগাম বন্যা আসার আগেই যাতে হাওর এলাকার কৃষকদের সকল ধান কাটা যায় তার জন্য অতিরিক্ত শ্রমিকের সংগ্রহসহ কম্বাইন হারভেস্টার মেশিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখানে উল্লেখ্য, চলতি বোরো মৌসুমে নেত্রকোনা জেলায় ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫৩০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। এরমধ্যে জেলার তিন হাওর উপজেলাতেই আবাদ হয়েছে ৪০ হাজার ৮৬৫ হেক্টর। নেত্রকোনায় এবার বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে। এখন শুধু বাকি কোনো দুর্যোগের আগে এই ধান ঘরে তোলা।