খুলনায় নিম্নবিত্তদের অনেকের ঘরেই নেই খাবার

খুলনায় ভালো নেই নিম্নবিত্ত পরিবারের সদস্যরা। কর্মহীন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া ও হতদরিদ্র মানুষের ভাগ্যে করোনার ত্রাণ মিললেও অধিকাংশ নিম্নবিত্ত পরিবারেই নেই খাবার। সামাজিক লোকলজ্জার ভয়ে তারা ত্রাণের জন্য খেটে খাওয়া হতদরিদ্র মানুষের সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়েও ত্রাণ নিতে পারছে না। এই অবস্থায় তাদের দিন কাটছে অর্ধাহারে-অনাহারে।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, খুলনা মহানগরীসহ জেলার ৯ উপজেলায় প্রাথমিকভাবে ৪৯ হাজার খেটে খাওয়া ও হতদরিদ্র পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। লোকসংখ্যা হিসাবে এই সংখ্যা ২ লাখ ৬১ হাজার ৩৫৫ জন। তবে, বাস্তবচিত্র এর চেয়ে অনেক বেশি। খেটে খাওয়া ও হতদরিদ্রদের মধ্যে রয়েছে, ভিক্ষুক, ভবঘুরে, দিনমজুর, ভ্যানচালক, রিকশাচালক, পরিবহন শ্রমিক, রেস্টুরেন্ট শ্রমিক, চায়ের দোকানদার, ফেরিওয়ালা ও কৃষক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নগরীর শেখপাড়া এলাকার নিম্নবিত্ত পরিবারের একজন বলেন, ‘করোনার কারণে এখন বাড়ি থেকে বেরোতে পারছি না। ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ। বাসার খাবার-দাবারও ফুরিয়ে গেছে। হতদরিদ্রদের মতো লাইনে দাঁড়িয়ে ত্রাণও নিতে পারছি না। বড়ো বিপদের মধ্যে আছি।’ খুলনা  জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আজিজুল হক জোয়ার্দার জানান, ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খুলনা মহানগরসহ জেলার ৯ উপজেলায় এ পর্যন্ত ৯০৫ মেট্রিক টন চাল ও ২৬ লাখ ৮ হাজার টাকা সরকারি সহায়তা হিসাবে দেওয়া হয়েছে।

খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্যানেল মেয়র-২ ও ২৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলী আকবর টিপু বলেন, তার ওয়ার্ডে হতদরিদ্র পরিবারের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে নিম্ন ও মধ্যবিত্তরাও তার কাছে মোবাইল ফোনে ত্রাণ চাচ্ছেন। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মিলিয়ে বর্তমানে এই সংখ্যা ৫ হাজারের ওপরে দাঁড়াবে। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত মাত্র ৩ মেট্রিক টন চাল পেয়েছি। যা ৩০০ হতদরিদ্র পরিবারের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও তিনি ব্যক্তিগতভাবে ৪ হাজার পরিবারকে সাহায্য করেছেন। তিনি বলেন, হতদরিদ্ররাতো ত্রাণের জন্য বিভিন্ন জায়গায় যেতে পারছে। কিন্তু নিম্নবিত্তরা আছেন কঠিন পরিস্থিতিতে। আমি নিম্নবিত্তদের মধ্যেও ত্রাণ সাহায্যের চেষ্টা করছি। খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বলেন, খুলনা মহানগরীসহ জেলায় এ পর্যন্ত ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষকে সরকারি খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। এ সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।