নাগেশ্বরীতে করোনা আতঙ্ক

নৌকা ও কাভার্ড ভ্যানে এলাকায় ফিরেছেন তিন শতাধিক মানুষ

নাগেশ্বরীতে নৌকা ও কাভার্ড ভ্যানে গত দুই দিনে ঢাকা থেকে এলাকায় ফিরেছেন চার ইউনিয়নের প্রায় তিন শতাধিক মানুষ। এদের অধিকাংশই হোম কোয়ারেন্টাইন না মানায় বেড়েছে করোনার কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের আশঙ্কা। আতঙ্ক চরমে।

দেশব্যাপী চলছে সাধারণ ছুটি (অঘোষিত লকডাউন)। এতে ঢাকার মুন্সীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জের ইটখোলায় আটকা পড়ে উপজেলার কচাকাটা ইউনিয়নের ইসলামপুর, তড়িরহাট, শোলমারী, ধনীরামপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রাম, কেদারের খামার, বল্লভেরখাসের মমিনগঞ্জ ও নারায়ণপুর ইউনিয়নের বালারহাটসহ কয়েকটি গ্রামের প্রায় ৩ হাজার মানুষ।

এলাকাবাসী জানায়, শুধু কচাকাটা ইউনিয়নের আটকে পড়া মানুষদের ফিরিয়ে আনতে তাদের পরিবারের লোকজন সাতটি নৌকা একেকটি ৩-৪ হাজার টাকা চুক্তি করে। এর মধ্যে মঙ্গলবার বিকালে দুই দফায় কচাকাটা থেকে নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় চারটি নৌকা। বাকিরা বুধবার সকালে রওনা দেয়। ঐদিন সন্ধ্যায় আরো দুইটি নৌকা ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার সময় বল্লভেরখাস ইউনিয়নের গংগাধর নদীর মাদারগঞ্জ ঘাট থেকে তাদের আটক করে কচাকাটা থানা পুলিশ। পথিমধ্যে প্রশাসনের লোকজন যাতে এসব নৌকা আটক না করে নির্বিঘ্নে তারা কুড়িগ্রামে আসতে দেন। এজন্য প্রত্যেক নৌকার মাঝিকে কচাকাটা ইউপি চেয়ারম্যান একটি করে ট্রেড লাইসেন্স এবং একটি করে প্রত্যয়নপত্র ধরিয়ে দেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় থানার ওসি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যথাক্রমে মৌখিক এবং মোবাইল ফোনে কথা হয়েছে।

কচাকাটা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল প্রত্যয়নপত্রের কথা অস্বীকার করে বলেন, আমি তাদেরকে একটি করে ট্রেড লাইসেন্স এবং একটি করে নাগরিকত্ব সনদ দিয়েছি। তবে তাদেরকে ঢাকায় যেতে নিরুত্সাহিত করেছি। কচাকাটা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুন অর রশিদ জানান, তিনি তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কোয়ারেন্টাইন মানতে বলেছেন। যাতে তারা এটি মেনে চলেন। এজন্য তারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করছেন। এছাড়া মানুষকে ঘরে রাখতে প্রশাসনিক তত্পরতা অব্যাহত আছে। নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুর আহমেদ মাছুম বলেন, এ রকম একটি সংবাদ তার কানেও এসেছে। যাতে তারা হোম কোয়ারেন্টাইন মেনে চলে এজন্য জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে প্রশাসন কাজ করছে।