নবাবগঞ্জের নয়নশ্রী ইউনিয়নে ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. সেকান্দার মিয়ার বিরুদ্ধে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ১০ টাকা কেজি দরের চালের কার্ড বিতরণে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহী প্রধানমন্ত্রী কঠোর মনোভাব ব্যক্ত করলেও বিষয়টি মামুলি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। ইত্তেফাকে এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীদের ভাষ্য নিয়ে বিস্তারিত সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পরও লিখিত অভিযোগ পেলে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম সালাউদ্দীন মনজু। এ ব্যাপারে নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম সালাউদ্দীন মনজু বলেন, বছরের প্রথম দিকে কার্ড বিতরণের তালিকার কার্যক্রম চূড়ান্ত হয়। অসহায় ও গরিবদের জন্য সরকার খাদ্যবান্ধব কর্মসূিচ চালু রেখেছে। এ নিয়ে কেউ অনিয়ম করলে তা সহ্য করা হবে না। যাদের সঙ্গে এ আচরণ করা হয়েছে সেই ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ করলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি। তবে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ইসরাত জাহান বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান রিপন মোল্লার কাছ থেকে একটি লিখিত পেয়েছি। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে পরামর্শ করে সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করে ইউপি সদস্য সেকান্দার মিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে নয়নশ্রী ইউপি চেয়ারম্যান রিপন মোল্লা বলেন, ‘১০ টাকা কেজি দরের চালের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য টাকা নিয়েছেন কি না, আমার জানা নেই। তবে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় নিয়মানুযায়ী মাসিক ৩০ কেজি চালের জন্য মাসে ২০০ টাকা করে জমা দিতে হয়। তাই দুই মাসের ৪০০ টাকা আর ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খোলা বাবদ ১০০ টাকা মোট ৫০০ টাকা করে সেকান্দার মেম্বার তার ছেলে জাকির ও একই এলাকার তার সহযোগী বাবুর আলী ওরফে বাবুর মাধ্যমে নেওয়া হয়েছিল। পরে এ টাকা নিয়ে যখন এলাকায় সমালোচনা শুরু হয় এবং জনগণ আমার কাছে অভিযোগ করে আমি তখন সেকান্দার মেম্বারকে টাকা ফেরত দিয়ে দিতে বলি এবং সে টাকা ফেরতও দেন তিনি।’ তিনি জানান, যেহেতু টাকা নিয়ে এলাকায় কথা হয়েছে আমি প্রত্যেককে বলে দিয়েছি এখন থেকে যে যার মতো ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলে জমা রশিদ দেখিয়ে চাল নিয়ে যাবে। এ ব্যাপারে সমাধান চেয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিতপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানান রিপন মোল্লা।
নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ ঝিলু বলেন, ১০ টাকা কেজি দরের চাল থেকে শুরু করে ভিজিএফ, শিশু কার্ড ও বিভিন্ন ভাতা নিয়ে যারা অনিয়ম বা দুর্নীতি করবে আমি ও উপজেলা অফিসারসহ তাদের বিরুেদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এ ব্যাপারে ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য সালমান এফ রহমানের সঙ্গে টেলিকনফারেন্স করেছি। তিনি বলেছেন ,‘আমার নির্বাচনী এলাকায় কোনো অনিয়ম দুর্নীতি সহ্য করা হবে না।’ তিনি বলেন এ ব্যাপারে আগামী রবিবার খাদ্যবান্ধব কর্মসূিচর সব ডিলারের সঙ্গে বৈঠক করব, যাতে করে ১০ টাকা কেজি দরের চাল থেকে ১ ছটাক চালও যেন কেউ কম দিতে না পারে। এ ব্যাপারে কেউ লিখিত অভিযোগ করলে অভিযুক্ত ডিলারের লাইসেন্স বাতিল করা হবে।