পর্যাপ্ত পানি পান আবশ্যক কেন?

যে কোনো জীবন্ত শরীর মূলত পানি দিয়েই তৈরি। বেঁচে থাকার জন্য পানির কোনো বিকল্প নেই সবাই জানি। মানব শরীরের ৭৫% হচ্ছে পানি, যার মধ্যে মস্তিষ্কের গঠনে ৮৫ শতাংশ, রক্তে ৯০ শতাংশ এবং ফুসফুসের প্রায় ৯০ শতাংশ পানি। মানুষ অনেকদিন পর্যন্ত খাদ্য না খেয়ে বেঁচে থাকতে পারে, কিন্তু পানি ছাড়া বেঁচে থাকা অসম্ভব। তাই খাদ্য তালিকায় অন্যান্য খাবার গ্রহণের সঙ্গে যথেষ্ট পরিমাণ পানি পান করাটাকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

পর্যাপ্ত পানি পান মলাশয়ে ক্যান্সারের ঝুঁকি ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত, মুত্রথলির ক্যান্সারের ঝুঁকি ৫০ শতাংশ এবং স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকাংশেই কমিয়ে দেয়। আমাদের শরীরের মাংসপেশির ৭৫ শতাংশ পানি। সুতরাং পানিশূন্যতা করে তুলতে পারে দুর্বল ও অবসন্ন।

প্রায়শই আমাদের মনে হয় আমরা ক্ষুধার্ত, বাস্তবে কিন্তু আমরা পিপাসিত। এর ফলে আমরা অপ্রয়োজনীয় খাবার গ্রহণ করে থাকি যা ওজনাধিক্যের একটি অন্যতম কারণ। অতএব সঠিক সময়ে পর্যাপ্ত পানি গ্রহণের মাধ্যমে অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ থেকে আমরা নিজেদের বিরত রাখতে পারি।

হাড়ের গঠনের ২২ শতাংশ পানি। পর্যাপ্ত পানি পান হাড়ের সংযোগস্থলের তরুণাস্থিকে নরম এবং সিক্ত রাখে, সর্বোপরি হাড়ের সংযোগস্থলের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।

দেহের পরিপাকতন্ত্রের পরিপূর্ণ কার্যকারিতা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত পানি। দেহের দূষিত পদার্থ ঘাম এবং মুত্রের মাধ্যমে শরীর থেকে বের হয়ে যায, পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি না পান করলে এই বর্জ্য শরীরের মধ্যে থেকে যায় এবং নানাবিধ রোগ সৃষ্টি করে।

পানিশূন্যতা মাথাব্যথার কারণ হতে পারে। পর্যাপ্ত পানি পান এই সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে। পানি রক্তের সঠিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করে এবং হূদযন্ত্র সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। পানি পুষ্টি উপাদানের প্রধান বাহক যা এই উপাদানগুলোকে প্রয়োজনীয় স্থানে পৌঁছে দেয়। পানিশূন্যতা এই প্রক্রিয়াতে ব্যাঘাত ঘটায় এবং অপুষ্টির কারণ হয়ে ওঠে। দৈহিক চাহিদা অনুযায়ী পানি পানের মাধ্যমে কোষ্ঠকাঠিন্য, উচ্চরক্তচাপ, ওজনাধিক্য ও ক্যান্সারের মতো রোগসমূহকে প্রতিরোধ করা সম্ভব।

প্রসঙ্গত উলে­খ্য যে, শীততাপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ তৃষ্ণার্ত হবার প্রবণতা কমায় এবং এর ফলে পানি গ্রহণ অনেকাংশেই কমিয়ে দেয়। ফলে পিপাসা লাগলেই পানি পান করতে হবে এই ধারণাকে বর্জন করতে হবে। খাদ্য তালিকায় অপরিহার্য অংশ হিসেবে গুরুত্ব দিতে হবে পানিকে।

বিভিন্ন বয়সে লিঙ্গ এবং অসুস্থতার উপর ভিত্তি করে পানির চাহিদার পার্থক্য সৃষ্টি হয়। ৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য দৈনিক ৪-৬ গ্ল­াস, ৮ বছরের ওপরে ৬-৮ গ্ল­াস, প্রাপ্ত বয়স্ক মহিলা ৮-১০ গ্ল­াস এবং পুরুষের ১০-১২/১৪ গ্ল­াস পানি পান অপরিহার্য।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়