চট্টগ্রামে করোনার ভয়ে বাজারমুখী হচ্ছে না মানুষ

চট্টগ্রামের পাইকারি ও খুচরা বাজারগুলোতে জিনিসপত্রের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। করোনা সংকটের মধ্যেও কোনো পণ্যের দাম তেমন একটা বাড়েনি। তবে পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। এসব দোকানে পণ্যের দাম বাজারের তুলনায় অনেক বেশি। এর কারণ অনুসন্ধানে জানা যায়, মূলত করোনা সংক্রমণের আশঙ্কায় লোকজন বাজারে যাবেন কম। নগরীর কাঁচাবাজারগুলোর পরিবেশ বরাবরই খুব নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন। বর্তমান পরিস্থিতিতে সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন সংস্থা বড়ো রাস্তা পরিষ্কার করা ও পানি ছিটানোর কাজে ব্যস্ত। কিন্তু নগরীর কাঁচাবাজারগুলোর দিকে তাকানোর সময় কারো নেই। তাই বাজারের চিত্র আগের মতোই। সেখানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বালাই নেই। ফলে করোনা সংক্রমণের ব্যাপক আশঙ্কা রয়েছে। তাই লোকজন পারতপক্ষে বাজারমুখী হচ্ছেন না। এর পাশাপাশি রাস্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়াকড়ি এবং যানবাহন স্বল্পতার কারণে বাজারে না গিয়ে পাড়ার দোকান থেকেই প্রয়োজনীয় কেনাকাটা সেরে নিচ্ছেন মানুষ। এমন সংকটময় মুহূর্তে মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে স্থানীয় দোকানদাররা।

মানুষকে জিম্মি করে জিনিসপত্রের গলাকাটা দাম আদায় করছে তারা। এসব দোকানে ডাল, তেল, চিনি, পেঁয়াজ, রসুনসহ প্রায় সব ভোগ্যপণ্যের দাম সারাবছরই বাজারের চেয়ে ৫/১০ টাকা বেশি নেওয়া হয়। কিন্তু করোনা সংক্রমণ রোধে সাধারণ ছুটি শুরু হওয়ার পর থেকে দাম নেওয়া হচ্ছে লাগামছাড়া। এ ব্যাপারে প্রতিবাদ করেও কোনো লাভ হয় না বলে ভুক্তভোগী ক্রেতারা ইত্তেফাককে জানিয়েছেন। শুধু ভোগপণ্য নয় ; মাছ, মাংস, মুরগি, তরিতরকারিসহ প্রতিটি পণ্যই বিক্রি হচ্ছে বেশি দামে। নগরীর রিয়াজউদ্দিন বাজারে গরুর মাংস বিক্রি হয় সর্বোচ্চ ৬০০ টাকায়। অথচ দুই কিলোমিটার দূরে মেহেদিবাগে তা বিক্রি হয় ৭৫০ টাকায়। দেশি ও সোনালি জাতের মুরগি বাজারে যথাক্রমে ৪০০ ও ২২০ টাকায় বিক্রি হলেও পাড়ার দোকানে কিনতে হয় ৪৫০ ও ২৫০ টাকায়। গত বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত নগরীর গোলপাহাড় মোড়ে অভিযান চালিয়ে সিরাজ নামে এক মাংস বিক্রেতাকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. উমর ফারুক ইত্তেফাককে বলেন, পবিত্র শবে বরাতকে পুঁজি করে উক্ত মাংসবিক্রেতা প্রতি কেজিতে বাজারের চেয়ে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেশি দামে গরুর মাংস বিক্রি করছিল।  

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর নগরীর মনসুরাবাদ এলাকায় গিয়ে দেখা যায় গলির মুখে লকডাউন লেখা সাইনবোর্ড। কিন্তু ভেতরে দোকানপাট খোলা রয়েছে। ঘরে থাকার নির্দেশনা অমান্য করে প্রচুর লোকজন অবাধে চলাফেরা করছে যা করোনা ভাইরাস সংক্রমণে সহায়তা করবে। পরে এসব আড্ডা পুলিশের মাধ্যমে ছত্রভঙ্গ করা হয়েছে।