সোয়েলের বাবা রমজান আলীর গার্ডের চাকরি; মাসে বেতন ৬ হাজার টাকা। মা জায়েদা বেগম গৃহিণী। তিন ভাই দুই বোনের সংসারে সোয়েল দ্বিতীয়। অভাবের সংসার, তাই অল্প বয়সেই কাজ খুঁজতে থাকেন সোয়েল। এক পর্যায়ে কাজ পেয়েও যান। তাঁর কর্মজীবন শুরু হয় ‘রংমিস্ত্রি’ হিসেবে। বছর দেড়েক এ পেশায় থেকে এরপর সোয়েল পা রাখেন জাহাজ ভাঙা শিল্পের জগতে। মাসিক ১৪ হাজার টাকা বেতনে চাকরি হয় তাঁর।
এই চাকরি করার সময় একদিন সোয়েলের বন্ধু আসলাম তাকে জানাল, চট্টগ্রামের ভাটিয়ারিতে দেশ শিপ বিল্ডিংয়ে বৃত্তির সুবিধাসহ বিনা বেতনে তিন মাস মেয়াদি ওয়েল্ডিং কোর্সে প্রশিক্ষণ লাভের সুযোগ রয়েছে। সেখানে প্রশিক্ষণ নিলে আরো ভালো বেতনে চাকরি পাওয়া যাবে; এমনকি চাকরি নিয়ে বিদেশে যাওয়ার সুযোগও পাওয়া যেতে পারে। বলা প্রয়োজন—দারিদ্র্যবিমোচন ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ‘স্কিলস ফর এমপ্লয়মেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম (সেইপ)’ বাস্তবায়ন করছে। ২০১৪ সালের জুলাই মাসে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের মাধ্যমে ২০২০ সালের মধ্যে দেশে পাঁচ লাখ দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা হবে। সম্পূর্ণ সরকারি খরচে এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এবং প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে ৭০ শতাংশের চাকরির সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশপাশি কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির জন্য এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে কমপক্ষে ৩০% নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হচ্ছে। একইসঙ্গে সুবিধাবঞ্চিত মানুষ যেমন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, চর ও হাওরসহ দুর্গম এলাকার অধিবাসী, বিলুপ্ত ছিটমহলের বাসিন্দা ও প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর কমপক্ষে ১ লাখ মানুষকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। উল্লেখ্য, প্রশিক্ষণ চলাকালে এ জনগোষ্ঠীকে প্রশিক্ষণভাতার পাশাপাশি বিশেষ বৃত্তি দেওয়া হচ্ছে।
দেশ-বিদেশে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের চাহিদার আলোকে বেসরকারি পর্যায়ে ১২টি ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন, সরকারি পর্যায়ে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান এবং পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ও বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই বিভাগ তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। আনুষ্ঠানিকতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে সোয়েল সেখানে ভর্তি হয়ে গেলেন।
তিনমাসের প্রশিক্ষণ শেষে পরীক্ষায় পাস করার পর সোয়েলের হাতে তুলে দেওয়া হলো সরকারি বৃত্তির ৯ হাজার টাকা। এ সময় আরো বড় একটি প্রাপ্তিযোগ ঘটে সোয়েলের জীবনে। প্রশিক্ষণ সমাপ্তির পর সপ্তাহ না গড়াতেই শিল্পপ্রতিষ্ঠান ‘বিএসআরএম’-এর রি-সাইক্লিং বিভাগের ইউনিট-২ এ মাসিক ২০ হাজার টাকা বেতনে চাকরি হয়ে যায় তাঁর। এ ধরনের একটি প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কী লাভ হয়েছে? আত্মবিশ্বাসের সুরে সোয়েল বললেন, বেশি বেতনের চাকরি পেয়েছি। এছাড়া প্রশিক্ষণ লাভের পর ওয়েল্ডিং ও ফেব্রিকেশনে আমার দক্ষতা বেড়েছে অনেকগুণ। ফলে চাকরির বাজারে আমার আলাদা একটা চাহিদা তৈরি হয়েছে। এখন কেউ চাইলেই আমাকে ফেলে দিতে পারবে না।
চট্টগ্রাম