নড়াইলের নড়াগাতি থানার ওসি রোকসানা খাতুনের স্বামী আহসানুল ইসলাম যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ‘চিকিত্সার অবহেলায়’ মারা গেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার সকালে যশোর হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে তার মৃত্যু হয়। কার্ডিয়াক অ্যাটাকে অসুস্থ হওয়ায় তাকে হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছিল।
ওসি রোকসানা খাতুন স্বামীর মৃত্যুর জন্য চিকিত্সার অবহেলার অভিযোগ করলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিত্সায় অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করছেন। বরং তারা স্বজনদের গাফিলতির দিকে আঙুল তুলছেন। আহসানুল ইসলাম রেলওয়ে কর্মী; যিনি বেনাপোলে কর্মরত ছিলেন।
স্বামীর লাশের পাশে বসে কাঁদতে কাঁদতে এই পুলিশ কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, যশোর জেনারেল হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে দায়িত্বরত চিকিত্সক ও নার্সদের অবহেলায় তার স্বামীর (৪৮) মৃত্যু হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি এত লোকের সেবা করে বেড়াচ্ছি, অথচ শুধু ডাক্তারের অবহেলায় আমার স্বামী মারা গেল। আমার সন্তানরা এতিম হলো।’
জরুরি এই রোগীর অক্সিজেন না দেওয়ার অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘তারা কিছুই করেনি। তারা ওয়ার্ডে রেখে চলে গেছে। না কোনো ডাক্তার, না কোনো আয়া। আমার দুনিয়াটা অন্ধকার করে দিল, ডাক্তারদের অবহেলা।’
তবে হাসপাতালের চিকিত্সকরা দাবি করছেন, কার্ডিয়াক অ্যাটাকে মারা যাওয়া ঐ রোগীর চিকিত্সায় কোনো অবহেলা করা হয়নি।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক দিলীপ কুমার রায় বলেন, ‘করোনারি কেয়ার ইউনিটে ভর্তির পর চিকিত্সক তাকে দেখে চিকিত্সাপত্র দেন। হাসপাতাল থেকে যা সরবরাহ করার, তা রোগীকে দেওয়া হয়। কিন্তু বাইরে থেকে ওষুধ আনার দরকার ছিল। তবে রোগীর পাশে তার কোনো লোক না থাকায় সেটা আনা হয়নি। তা ছাড়া রোগী মাত্র ১০ মিনিট সময় দিয়েছে। ফলে তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।’